দেশে কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস চিকিৎসা সুলভ করার জন্য সর্বাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আগামী মার্চে এ ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হবে। প্রথম বছর প্রতিদিন এই ডায়ালাইসিস সেন্টারে ৪০০ রোগী ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবে। দ্বিতীয় বছর এ সুবিধা পাবে ৫০০ জন রোগী। এরমধ্যে ২৫ জন অতি দরিদ্র বিকল রোগীর সম্পূর্ণ বিনা খরচে ডায়ালাইসিস করানো হবে। এছাড়া প্রথম বছর দরিদ্র রোগীর কাছ থেকে প্রতি ৪ ঘণ্টার ডায়ালাইসিস সুবিধার জন্য ১ হাজার ১’শ টাকা ও মধ্যবিত্ত রোগীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫’শ টাকা নেয়া হবে। দুই বছর পর টাকার পরিমাণ কমবে। অথচ বাইরে কিডনি রোগীকে প্রতিবার ডায়ালাইসিস করার জন্য ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে বিকল কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। অথচ দেশে ডায়ালাইসিস মেশিন আছে মাত্র ৬৫০টি। যার একটি বড় অংশ অকেজো। প্রতি বছর ৩০ হাজার নতুন বিকল কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডায়ালাইসিস চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল হওয়ায় প্রতি বছর ৪০ হাজার কিডনি রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। অথচ তাইওয়ান, জাপান, ইরান, কানাডা, কিউবা ও ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নাগরিকরা স্বাস্থ্য বীমার অধীনে সারা জীবন ডায়ালাইসিস সুবিধা পান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, রক্তে সম্পর্কিত নিকট আত্মীয় ছাড়া অন্য কোন জীবিত ব্যক্তি কিডনি দান করতে না পারায় দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন সংখ্যা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া দেশের সরকারি কয়েকটি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সুলভ হলেও অধিকাংশ সময়ে মেশিন অকেজো থাকে। সেইসঙ্গে রয়েছে নানা ভোগান্তি। এসব ভোগান্তি ও দরিদ্র রোগীদের কথা চিন্তা করেই প্রাথমিকভাবে ১০০টি অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এজন্য ব্যয় হবে ৩০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বাকি অর্থায়ন সবার সাহায্য ও সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
