বরেণ্য গীতিকার কুটি মনসুর আর নেই

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৫২
 
জনপ্রিয় গান ‘আমি কি তোর আপন ছিলাম না রে জরিনা’ লেখক বরেণ্য গীতি কবি কুটি মনসুর আর নেই। অগণিত ভক্ত ও সঙ্গীতাঙ্গনের মানুষদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সাড়ে সাতটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। কুটি মনসুরের  মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
 
গুণী এই গীতিকারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার বড় ছেলে খান মোহাম্মদ মজনু বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার রামপুরার বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কুটি মনসুর। এরপর তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৯ ডিসেম্বর উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে।
 
তিনি আরো জানান, আজ বুধবার ঢাকার দোহারে কুটি মনসুরের শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
 
তার কথা ও সুরে গান গেয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পীরা। তাদের মধ্যে আছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, নীনা হামিদ, রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর, ইন্দ্রমাহন রাজবংশী, ফিরোজ সাঁই, মুজিব পরদেশী প্রমুখ।
 
অসুস্থ হওয়ার প্রায় দুই মাস আগে বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয় কুটি মনসুরের লেখা ‘আমার বঙ্গবন্ধু, আমার একাত্তর’ নামের একটি বই।
 
১৯২৬ সালে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার লোহারটেক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন লোকজ গানের জগতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি কুটি মনসুর। দীর্ঘ ৬০ বছরের সংগীতজীবনে পল্লীগীতি, আধুনিক, জারি-সারি, পালাগান, পুঁথিপাঠ, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, মারফতি, আধ্যাত্মিক, দেহতত্ত্ব, হামদ-নাত, ইসলামি প্রভৃতি বিষয়ে প্রায় আট হাজার গান লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো:  ‘আইলাম আর গেলাম’, ‘যৌবন জোয়ার একবার আসে রে’, ‘আমি কি তোর আপন ছিলাম না রে জরিনা’, ‘কে বলে মানুষ মরে’, ‘হিংসা আর নিন্দা ছাড়ো’, ‘সাদা কাপড় পরলে কিন্তু মনটা সাদা হয় না’ ইত্যাদি।