দশম শিশু চলচ্চিত্র উত্সবের উদ্বোধন হল ঢাকের আওয়াজে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে গতকাল মঙ্গলবার ছিল এই উত্সব। ‘ফেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’– প্রতিপাদ্যে বিকেলে পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে উত্সবকে কেন্দ্র করে ছিল ব্যাপক লোকসমাগম। উদ্বোধনী সঙ্গীত ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, উত্সব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, চিলড্রেন্স্ ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উত্সব উপদেষ্টা মোরশেদুল ইসলাম ও উত্সব পরিচালক আবীর ফেরদৌস। চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত এই উত্সব রাজধানীর পাশাপাশি রাজশাহী ও রংপুরেও শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী পর্বের শেষে শওকত ওসমান মিলনায়তনে ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান। মুস্তাফা মনোয়ারের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এখানে অনেক ছবি প্রদর্শিত হবে। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে ছবি দেখবে এবং অনেক কিছু জানতে পারবে। এতে তাদের রুচির পরিবর্তন হবে। এটা একটা বড় পাওয়া। উত্সবের মধ্য দিয়ে শিশুরা তাদের প্রতিভা বিকাশেরও সুয়োগও পাচ্ছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে পরীক্ষার্থী বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থী নেই, এটাই আমাদের বড় সংকট। বাচ্চাদের জীবন থেকে ফুল-পাখি, আলো-বাতাস হারিয়ে যাচ্ছে। তারা মেশিনের মতো বড় হচ্ছে। মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, বাচ্চারা সুন্দরভাবে নিজেরাই উত্সবের আয়োজন করছে এটা একটা দারুণ ব্যাপার। আলোচনাপর্বের শেষে ছিল প্রদীপ প্রজ্বালন পর্ব। এরপর প্রদর্শিত হয় উত্সবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘ফিড্ল্ স্টিকস। এবারের উত্সবে বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। চট্টগ্রামে এ উত্সব শুরু হবে ৩ মার্চ। সারাদেশের ১১টি ভেন্যুতে এ উত্সবে শিশুরা তাদের অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে বিনামূল্যে চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন। এবারের উত্সবের রাজধানীর মূল ভেন্যু কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন। উদ্বোধনী দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি করে প্রদর্শনী হবে। পাবলিক লাইব্রেরি ছাড়া রাজধানীর অন্য ভেন্যুগুলো হলো: জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের ধানমন্ডি ও উত্তরা শাখা, ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি মিলনায়তন।
এবারও ‘ইয়াং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’ শীর্ষক বিভাগটি রয়েছে, এতে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিবেন। এছাড়াও রয়েছে সোশ্যাল ফিল্ম সেকশন, যেখানে আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগে উত্সব কমিটির দ্বারা মনোনীত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের মোট ২১টি চলচ্চিত্র অংশ নিবে। এবার প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা বিভাগ থাকছে, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরস্কার দেয়া হবে। উত্সবে বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮ জন অতিথি উত্সবে প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১২৫ জন শিশু প্রতিনিধি অংশ নেবে উত্সবে। রাজধানীর উত্সব ভেন্যুগুলোয় শিক্ষার্থীদের অংশ নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উত্সবে আসার জন্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
