বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে গঠিত সার্চ কমিটি আওয়ামী লীগের ইচ্ছানুযায়ী হয়েছে। যে সার্চ কমিটি হয়েছে তা আওয়ামী লীগের পছন্দের কমিটি। আমরা শুধু হতাশই হইনি, ক্ষুব্ধও। গঠিত সার্চ কমিটিতে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি।
বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের স্মরণে এই আলোচনার আয়োজন করে ২০ দলের শরিক লেবার পার্টি।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি আলোচনা শুরুর পরে বিএনপি আশার আলো দেখেছিল। কিন্তু সেই আশা হতাশা-অন্ধকারে পরিণত হয়েছে। চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা পত্রপত্রিকা আর অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি সার্চ কমিটিতে কারা কারা আছেন। যেসব নাম দেখছি, তাতে এটা আওয়ামী লীগের পছন্দের সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রপতি একটি প্রতিষ্ঠান। বিএনপির আশা করেছিল, তার কাছে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত পাবে। একটি সুষ্ঠু সার্চ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট থেকে জাতিকে বের করে আনার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি সেই উদ্যোগ গ্রহণ করলেন না। এখন বোঝা যাচ্ছে বাছাই কমিটি কি ধরনের ইসি গঠন করবে। এই কমিটির মাধ্যমে আবারও অন্ধকার গহ্বরের দিকে দেশকে ঠেলে দেয়া হলো। আওয়ামী লীগ আবারও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
বিএনপির এ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের পর রাষ্ট্রপতি সংলাপের উদ্যোগ নেয়ায় সারা দেশের মানুষ আশার আলো দেখছিল। সবাই ভেবেছিল একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিটি গঠন হবে এবং মানুষ তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবে। সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। এবং চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই পুরো সার্চ কমিটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দের। কারণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, কন্ট্রোলার জেনারেল, প্রোভিসি নিয়োগ দিয়েছে এই সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক দেশ। সর্বশক্তির উৎস হচ্ছে জনগণ। সেই জনগণের কাছ থেকে যখন জোর করে ক্ষমতা হরণ করা হয়। ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। তখন সেটাকে ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র বলা হয়। আজকে সেই অবস্থায় আমরা আছি। সেই আশা-হতাশায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, জনগণের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অস্থিতিশীলতা ও অশ্চিয়তা।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ।
প্রসঙ্গত যে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। তার আগেই কমিশনে নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপতি। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি মোট ৩১টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/ইউবি
