১২ হাজার মেয়েকে বাঁচিয়ে 'পদ্মশ্রী' অনুরাধা কৈরালা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:০৩
অসহায় ও নির্যাতিত মেয়েদের 'পাচার-দস্যু'দের হাত থেকে রক্ষা করাই তার জীবনের ব্রত, সেজন্য তাকে বাস্তব পৃথিবীর 'মহা-নায়িকা' হিসেবে দেখেন অনেকেই। এখনো পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মেয়েকে নারী পাচারকারী ও দেহ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে জীবনের স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে এনেছেন অনুরাধা কৈরালা নামের নেপালের ওই বাসিন্দা। ওই ১২ হাজার মেয়েকে নরক যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচিয়ে নতুন জীবন দিয়েছেন তিনি।
 
এই আর্ত-অসহায় মেয়েগুলোকে আশ্রয় দিতেই তিনি তৈরি করেছেন 'মাইতি'। এই নেপালি শব্দের অর্থ মায়ের বাড়ি। মা-এর মতোই এখানে তিনি লালন-পালন করেন বিপদে পড়া বহু মেয়েকে। পাচারকারী বা দেহ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে উদ্ধার করার পর কেউ যদি তার নিজের বাড়ি ফিরতে না চায়, তাদের আশ্রয় ওই মাইতি।
 
শুধু নারী পাচার বা দেহব্যবসার বিপদ থেকেই নয়, পারিবারিক হিংসার ফলে নিপীড়িত মেয়েদের সাহায্যেও সব সময়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনুরাধা কৈরালা। তার সারাজীবনের এই নিঃস্বার্থ কাজের জন্য তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করতে যাচ্ছে ভারত সরকার।
 
IMG0
 
নারীর প্রতি যে কোনো রকমের অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় অনুরাধা। কিন্তু কেন বিপদের বাধা উপেক্ষা করে এমনভাবে অসহায় মেয়েদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনুরাধা? উত্তর দিয়েছে তার অতীত। আজকের অনুরাধা কৈরালা জন্ম নিয়েছে একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত নেপালি গৃহবধূর মধ্য থেকে, যার উপর নিত্য অত্যাচার চালাত তার স্বামী!
 
IMG1
 
হাফিংটন পোস্টের খবর বলছে, তিন তিনবার স্বামীর অত্যাচারে নষ্ট হয়ে যায় তার গর্ভস্থ সন্তান। তৃতীয় ভ্রূণের মৃত্যুর পর বিবাহবিচ্ছেদ। তারপরই পথ চলা শুরু এমন অগ্নিকন্যার, যিনি প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি নারীকে নতুন জীবন দান করেছেন।
 
ইত্তেফাক/এএম