শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ

জঙ্গিবাদ নির্মূলের নির্দেশনা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:১৯
 
এবারের পুলিশ সপ্তাহে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে জঙ্গিবাদ দমনের বিষয়টি। সর্বশেষ দিনে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন, যে কোন মুল্যে জঙ্গিবাদ দমন করতে। পাশাপাশি থানায় দায়েরকৃত মামলা দ্রুত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচদিন ব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ রাউন্ডআপ কনফারেন্সের মধ্যে দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে। এদিকে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সিআইডির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে অস্ত্র, মাদক, চোরাচালানের মামলা বেড়েছে। গত এক বছরে এ মামলার সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি।
 
গতকাল শুক্রবার শেষদিনে পুলিশ কর্মকর্তারা জড়ো হন নরসিংদী জেলার মাদবদী এলাকার ড্রিমল্যান্ড পার্কে। রাউন্ডআপ কনফারেন্স বলা হলেও এটি ছিল অঘোষিত পিকনিক। এখানে বক্তব্য রাখেন মহাপুলিশ পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপরাধ) হুমায়ুন কবির। মহাপুলিশ পরির্দশক তার বক্তব্যে বলেন, যে কোন মূল্যে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের এবার পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমাদেরকে সমাজ থেকে জঙ্গি দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটি কোন একক দেশের সমস্যা নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গিদমনে অভূতপুর্ব সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে। দেশে এখন জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশে আর যেন জঙ্গি কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের         সর্বদা সজাগ ও সর্তক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
 
পুলিশ প্রধান বলেন, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের সঠিক ব্যাখা তুলে ধরতে হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশিংকে কাজে লাগাতে হবে। জঙ্গিদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপশি তাদের আত্মীয় স্বজনদেরও হালনাগাদ তথ্য রাখতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ে সমাজের সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে একত্রিত করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে জঙ্গি নির্মূল করতে হবে। মহাপুলিশ পরিদর্শক আরো বলেন, পাশাপাশি থানায় দায়েরকৃত মামলার  দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের জনবল বেড়েছে। বেড়েছে সক্ষমতা। তাই জনগণ যাতে দ্রুত কাংখিত সেবা পায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
 
এদিকে, পুলিশ সপ্তাহে কি নির্দেশনা পেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক পুলিশ সুপার ইত্তেফাককে জানান, অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের পুলিশ সপ্তাহ ছিল অনেকটা জাঁকজমকপূর্ণ। পুলিশ সুপাররা তাদের কথাবার্তা অনেকটা খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছেন। তারা আরো বলেন, এবারের আলোচনায় সর্বাধিক গুরুত্ব পায় জঙ্গিবাদ।
 
অপরদিকে গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জঙ্গিবাদ বিস্তার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে জঙ্গিবাদ দমনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। অবশ্য এর আগে গত ২৩ জানুযারি পুলিশ সপ্তাহ- ২০১৭ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জঙ্গি দমনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 
মামলার সংখ্যা বেড়েছে: সিআইডির তথ্য
 
এদিকে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সিআইডির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানের মামলা বেড়েছে। গত এক বছরের এ মামলার সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি। পুলিশ সপ্তাহের চতুর্থদিনে গত বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাহিনীর মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিআইডির পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান উদ্ধার মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৫৬ হাজার ৬৫২টি, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬৬৬টিতে। এতে আরো জানানো হয়, সিআইডি ২০১৬ সালে খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, নারী শিশু নির্যাতন, জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা ও অন্যান্য মামলাসহ মোট ৩ হাজার ৪১টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে সারাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ২০১৫ সালের তুলনায় কমেছে।
 
২০১৫ সালে ডাকাতির মামলা ছিল ৪৯১টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ৪০৮টি। দস্যুতার মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৯৩৩টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ৭২২টি। সিঁধেল চুরির মামলা ২০১৫ সালে ছিল ২ হাজার ৪৯৭টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ২ হাজার ২১৩টি। চুরির মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৬ হাজার ৮১৯টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ৬ হাজার ১১০টি।
 
খুনের মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৩৯৯৯টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ৩৫৫২টি। দাঙ্গাসহ খুনের মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৩৭টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ১৯টি। নারী নির্যাতন মামলা ২০১৫ সালে ছিল ১৯ হাজার ৪৮৬টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ১৬ হাজার ৭৩০টি। শিশু নির্যাতন মামলা ২০১৫ সালে ছিল ১৭ হাজার ২৭টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ১ হাজার ৭১২টি। অপহরণ ও পাচার মামলা ২০১৫ সালে ছিল ৮০২টি, ২০১৬ সালে কমে হয়েছে ৬৩৯টি।