সরকার বছরের শুরুতে শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে যে বই তুলে দিয়েছে, সেখানে যা সংযোজিত হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধ, সরকারের নীতি ও আমাদের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। এজন্য পাঠ্যসূচি পুনর্লিখিত করতে হবে। প্রয়োজনে অতীতের পাঠ্যসূচির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক মানবিক নারী-পুরুষ সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি চাই’ শীর্ষক মানববন্ধন থেকে পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দরা বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষের মানুষদের চিহ্নিত করে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক। প্রশাসনে এখনো যারা জামায়াত-শিবিরের পক্ষের লোক আছে তাদের চিহ্নিত করা হোক। যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হোক।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশুদের পাঠ্যসূচিতে যা দেখছি তা পিতৃতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক। আমরা যে শিক্ষানীতির জন্য দীর্ঘ দিন আন্দোলন চালিয়েছি তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য, সংবিধানের নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য।
মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, আজ আমরা যে বিষয়ে মানববন্ধন করাতে দাঁড়িয়েছি তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তাদের কাছ থেকে যে শিক্ষানীতি, পাঠ্যপুস্তক আমরা পেয়েছি তা দেখে আমরা বিস্মিত।
তিনি বলেন, আমরা এমন পাঠ্যসূচি চাই যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারবে ভাষা আন্দোলনের কথা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের কথা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা, ৭২ এর সংবিধানের কথা। বাংলাদেশের নারী আন্দোলন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তারা পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের দাবি করছে।
পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য বলেন, আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পাঠ্যসূচিতে যে পরিবর্তন এনেছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যসূচি তৈরির দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনকালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমরা পাঠ্যসূচিতে অনেক অসঙ্গতি লক্ষ করেছি যা বাংলাদেশের মূল চেতনার সাথে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।
মহিলা পরিষদ আয়োজিত দুইদিনব্যাপী জাতীয় পরিষদ সভার দ্বিতীয় দিনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ৫৩টি জেলা শাখা থেকে আগত চার শতাধিক নেতা-কর্মী ও সংগঠক অংশগ্রহণ করেন।
ইত্তেফাক/এএসএস
