এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী দুই ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জেন্টকে এই পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষায় মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণিত না হলে ৬ মাসের মধ্যে তাদের মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। অন্যদিকে মানসিক রোগী বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইন অনুসারে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানানো হয়।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণাদেব নাথের ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এ আদেশ দেন। আদালতে ঐ দুই বন্দীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে।
পৃথক দুটি হত্যা মামলায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে আটক রয়েছেন শফিকুল ইসলাম ওরফে স্বপন (৩৫) ও ছাবেদ আলী (৫৫)। তাদের মধ্যে একজনের মামলার সাক্ষী গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু রায় দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি নজরে আনা হলে ১৯ জানুয়ারি ওই দুই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে কিশোরগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তলব করা হয় মামলার নথি। পাশাপাশি বিনা বিচারে আটক শফিকুল ইসলাম ওরফে স্বপন (৩৫) ও ছাবেদ আলীকে (৫৫) কেন জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে আদালত।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল শফিকুল (হাজতি নং৬২৩১/২০০৭) এবং ২০০৩ সালের ২৯ জুন ছাবেদ (হাজতি নং ৫৪৭৫/১৪) পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যান। এদের মধ্যে শফিকল ১৭ বছর এবং ছাবেদ ১৩ বছর ধরে বন্দী। শফিকুলের মামলার সাক্ষী গ্রহণ ২০০৩ সালে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু রায় হয়নি। অপরদিকে ছাবেদের মামলার বিচার শুরু হয়েও শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে জানে না কেউ। দুটি মামলাই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।
এ নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। শুনানিতে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দু’জন মানসিক রোগী বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে শফিকুলের মামলার সাক্ষী গ্রহণ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলার কোন আসামি মানসিক রোগী হয়ে থাকে তাহলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ রেখে তার আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় দিয়ে চিকিৎসা অথবা সেফ হোমে পাঠাবে আদালত। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনটিই করা হয়নি। তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া উচিত। এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিম্ন আদালতের অনেক ক্ষমতা রয়েছে। তারাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।
ইত্তেফাক/আরএ
