শিশু পারভেজকে হত্যার দায়ে আল-আমিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:১৭
 
অপহরণ করে শিশু পারভেজকে হত্যার দায়ে আসামি মো. আল-আমিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এই রায় দেন।
 
শিশু পারভেজকে (১২) হত্যার দায়ে কুমিল্লার জেলা দায়রা জর্জ এ আর মাসুদ ২০১২ সালে ৩১ জানুয়ারি আল-আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, কুমিল্লা দেবীদ্বারের কামারচরে ইঞ্জিনিয়ার আবু ইউসুফ খান রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন মো. পারভেজ। ২০১০ সালের ৫ নভেম্বর জুম'আর নামাজের পর পারভেজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে পারভেজের খোঁজ জারি রাখে তার পরিবার। এ ঘটনার কয়েকদিন পরই পারভেজের মা জোছনা বেগম থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে পারভেজের আত্মীয় আল-আমিন থানায় হাজির হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।
 
নিজ জবানবন্দীতে আল-আমিন বলেন, ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে পারভেজকে দীঘির পাড়ে নিয়ে যাই। বিকেলে সেখানে পারভেজ আসার পর ৫ মিনিটের মধ্যে তার গলা চেপে হত্যা করি। হত্যার পর লাশ পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতের সীমানায় রেখে আসি। পারভেজ সম্পর্কে আমার জ্যাঠাত ভাই হয়। ঘটনার ২ দিন পর পারভেজের মায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমিও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি চেপে গিয়ে তাদের সঙ্গে পারভেজকে খুঁজতে বের হই। ঐদিন রাত ১০টার সময় পারভেজের লাশ কাঁধে নিয়ে ধানক্ষেতের সীমানা থেকে দীঘির পাড় বিলের মধ্যে রেখে আসি। কিন্তু তারপর থেকে আমি কিছুতেই ঘুমাতে পারছিলাম না। পরের দিন লাখ টাকা মুক্তিপণ পেয়ে পারভেজের বাড়িতে একটি চিঠি দেই। এরপর মানসিক অস্থিরতার কারণে থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলি পুলিশকে। তারা আমাকে সঙ্গে নিয়ে পারভেজের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে।
 
ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কুমিল্লার জেলা দায়রা জর্জ এ আর মাসুদ ২০১২ সালে ৩১ জানুয়ারি আল-আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আল-আমিন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ এবং আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কুশলী এস এম শফিকুল ইসলাম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।
 
ইত্তেফাক/আরএ