মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের শরণার্থী ও ভিসাধারী ব্যক্তিদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চাপ দেবে প্রধান মিত্র যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুডকে নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার সিরিয়া, ইরাক, ইরান, ইয়েমেন সহ সাতটি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন টুইটারে দেয়া পোস্টে বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে কাউকে দোষারোপ করলে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং ভুল সিদ্ধান্ত।
বিবিসি জানিয়েছে, থেরেসা মে কনফারেন্স কলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুডকে নির্দেশনা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধানের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা বলতে। তিনি তাদের বলেন, যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে।
এর আগে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা না করায় সমালোচিত হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। প্রাথমিকভাবে তিনি বলেছিলেন, শরণার্থী বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কী হবে সেটা তারাই নির্ধারণ করবে। এরপরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী এই ধরণের নীতি সমর্থন করেন না এবং অবশ্যই এমন কোনো সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য সরকার নেবে না। বিবৃতিতে যোগ করা হয়, এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের কোনো সমস্যা হলে সেটি সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার সরকার।
ইরাকে জন্ম নেয়া যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ এমপি নাদিম জাহাওয়ি বলেন, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। সোমালিয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন স্যার মো ফারাহর সন্তান ও স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। তিনি বলেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে তার সন্তানদের হয়তো তার বলতে হবে যে আমি বাড়ি যেতে পারবো না।
ইত্তেফাক/এসএসএ
