আজ বাদে কাল শুরু হচ্ছে বইপ্রিয় মানুষের প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল পহেলা ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে ‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের বইমেলায় স্টলের খোঁজ পাওয়া যাবে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের মাধ্যমে। এদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এবারের মেলা অন্য যে কোনো বারের তুলনায় দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাঠকের চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে স্টল বিন্যাস। এদিকে, জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে বইমেলা ও এর আশেপাশের এলাকা ঢেকে ফেলা হচ্ছে নিরাপত্তার চাদরে।
এবার প্রতিদিন মেলা শুরু হবে বেলা তিনটায়। চলবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। তাছাড়া প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার মেলা বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত চলবে। সেইসঙ্গে শুক্র ও শনিবার শিশুপ্রহর হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিশুপ্রহর থাকবে বেলা ১১টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত।
মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০% কমিশনে এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে ১০১টি নতুন বই। এবারও শিশুকর্নার মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে।
এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বইমেলার ব্যবস্থাপনা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিরাপদ ইভেন্টস-এর চেয়ারম্যান নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। মেলার সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। শামসুজ্জামান খান বলেন, বইমেলায় মৌসুমী প্রকাশকরা এসে ভিড় করছেন। তারা রাজনৈতিক চাপে স্টল বরাদ্দ নিচ্ছেন। আমরা যদি এসব মৌসুমী প্রকাশকদের বিষয়ে কঠোর হতে পারি, তবেই এ সমস্যার সমাধান করা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে শামসুজ্জামান খান বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বিতর্ক সৃষ্টিকারী বই প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমি দায়ভার নেবে না। মেলায় শত শত বইয়ের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে এমন বিতর্কিত বই খুঁজে দেখার দায়িত্ব তো আমাদের নয়। এ ধরনের বিষয় দেখবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা এ বিষয়ে কোনো কথাই বলব না।
গত বছর হযরত মুহম্মদ (সা:)কে কটাক্ষ করে প্রকাশিত একটি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি বইয়ের জন্য যদি বইমেলার উপর আক্রমণ হয়, তাহলে আমরা পুরো স্টল বন্ধ করে দেব।
ই্ত্তেফাক/এসএসএ
