‘লেখকদের সঠিক সম্মান দেওয়া হলে ভালো গল্প উঠে আসবে’

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৯:৪৭
 
গিয়াস উদ্দিন সেলিম। ‘মনপুরা’ ছবির সফলতার পর অনেকদিন তার নতুন কোনো ছবি পায়নি দর্শকরা। সেই বিরতিটা ঘুচতে যাচ্ছে শিগগিরই। নতুন ছবি ‘স্বপ্নজাল’ মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
 
আপনার নতুন চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নজাল’ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
 
পুরো চলচ্চিত্রের কাজ শেষ। এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের অক্টোবর নাগাদ চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিতে পারবো।
 
‘স্বপ্নজাল’-এর গল্প প্রসঙ্গে বলুন—
 
নদী তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠা ইলিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে চলচ্চিত্রটির গল্প। পুরো চলচ্চিত্রে কখনো মনে হবে কিছুটা গল্প ভালোবাসার, কিছুটা গল্প সামাজিকতার। এর বেশিকিছু বলতে চাই না, বাকিটা দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে থাকুক।  
 
চলচ্চিত্রের সমসাময়িক পরিবর্তনটা আপনি কিভাবে দেখছেন?
 
আমাদের চলচ্চিত্রের অনেক দর্শক আছে। ভালো সিনেমা পেলে দর্শক হলে আসেন। গল্প ঠিক থাকলে পরিপূর্ণ সিনেমা হলে দর্শক যে এখনো সিনেমা দেখতে হলে যান তার বড় প্রমাণ আয়নাবাজি, কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের ভালোমানের হল নেই। তবে দর্শক থাকলে এবং আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ভালোমানের ছবি হলে সিনেমা হলও একদিন ঠিক হয়ে যাবে এটাই আমার মনে হয়। তাই সম্ভাবনার কথা বলাই যায়।
 
এখন চলচ্চিত্রের পরিমাণ বাড়ছে। এরপরও মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আপনি এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
 
সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে সিনেমার গল্পের প্রতি। আমাদের অধিকাংশ সিনেমাই দেখা যায় গতানুগতিক ধারার। ভালো সিনেমার জন্য ভালো গল্পের দরকার। সেই জায়গা থেকে আমাদের ভালোমানের স্ক্রিপ্ট রাইটার নেই। কারণ সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য লেখকদের উপযুক্ত সম্মানী দেওয়া হয় না। লেখকদের সঠিক সম্মান দেওয়া হলে ভালো গল্প উঠে আসবে। লেখকরাও ভালো গল্প লিখতে আগ্রহ দেখাবেন।
 
যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
 
আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি যৌথ প্রযোজনা, একক প্রযোজনা বলে কিছু নেই। সবার আগে দেখতে হবে কাজটা কেমন। সেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটুকু ভালো, কতটুকু আমাদের সাথে যায়। গল্পের ক্ষেত্রে যৌথ প্রযোজনা হলেও কাজের ক্ষেত্রে একটা পক্ষের প্রভাব দেখা যায়, কারণ এটার সঠিক কোনো নীতিমালা নেই।   
 
আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
 
আমার ভাবনার জায়গাটা খুবই সাধারণ। সিনেমা রুচি তৈরির ক্ষেত্রে আমার দেশে খুবই পজেটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলবে এবং লোকেরা ইন্টারটেইন্ট হবে। আগে যেমন সিনেমা দেখার জন্য একটা হিড়িক ছিল এখন আবার সেরকম একটা দল হবে। প্রতি সপ্তাহ এবং পাক্ষিকভাবে প্রতিটি পরিবার সিনেমা দেখার জন্য আলাদা টাইম এবং বাজেট রাখবে। এমন দিন যদি ফিরে আসে তাহলেই আমি খুশি।
 
ইত্তেফাক/এমএআর