বিশ্বব্যাপী বিদেশি দেশগুলো নিজ দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা ঠেকাতে যেভাবে কাজ করে, বাংলাদেশি দূতাবাস সেভাবে কাজ করে না বলে অভিযোগ তুলেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বুধবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি গার্মেন্টস নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা প্রসঙ্গে এ কথা বলেন।
বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি’র (বিইউএফটি) উদ্যোগে ফেলোশিপপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের নেদারল্যান্ডস গমন উপলক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সব সময় বাংলাদেশের গার্মেন্টস নিয়েও নেতিবাচক প্রচারণা হয়। আমাদেরও দুর্বলতা আছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো খুবই শক্তিশালী। তারা নেতিবাচক প্রচারণা ঠেকাতে কাজ করে। কিন্তু আমাদের দূতাবাস সেভাবে কাজ করে না।
এ সময় দেশে বিপুল সংখ্যক গ্রীন কারখানা গড়ে উঠছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৬৭টি গ্রীন কারখানা হয়েছে। আরো ২২০টি গ্রীন কারখানা ‘পাইপলাইনে’ রয়েছে। এসব কারখানা কাজ শুরু করলে দেশের গার্মেন্টস খাতের চেহারা বদলে যাবে। বর্তমানে যেসব কারখানা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো বিএনবিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) ও আন্তর্জাতিক রীতি মেনে হচ্ছে। কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) ক্ষেত্রে কোন আপস করা হচ্ছে না।
এ সময় আশুলিয়ায় সামপ্রতিক শ্রম অসন্তোষ এবং এর জেরে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও গ্রেফতারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রমিকরা দিনের পর দিন কারখানায় কাজ বন্ধ রেখেছে। তাদের গ্রেফতার করার পর এখন সে উত্তর তারা দেবে। আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা হচ্ছে। অথচ বিশ্বের শক্তিশালী একটি দেশে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করার পরও কোন কথা হয় নি।
এ সময় উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরা গার্মেন্টস খাতের ইতিবাচক বিষয়গুলো গণমানুষের কাছে আনার জন্য বিজিএমইএকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মোহাম্মদ নাসির ছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক ও ফেলোশিপের বিচারক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শ্যামল দত্ত ও সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা উপস্থিত ছিলেন।
ফেলোশিপপ্রাপ্ত ছয় সাংবাদিক হলেন এটিএন বাংলার রিপোর্টর শারফুল আলম, যুগান্তরের মিজান চৌধুরী, ইত্তেফাকের রিয়াদ হোসেন, ঢাকা ট্রিবিউনের ইব্রাহিম হোসেন অভি, ভয়েস অব আমেরিকার নাসরিন হুদা বিথী ও দীপ্ত টিভি’র মেহেদী হাসান আলবাকার।
ইত্তেফাক/এএম।
