বাগমারায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষক ও সিএনজি চালক নিহতের ঘটনায় আটক ট্রাকটি ছেড়ে দিল পুলিশ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক ট্রাকটি পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি স্কুলশিক্ষক সুজিত কুমার মণ্ডলসহ চারজন যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালক শাহীন আলম রাজশাহী থেকে বাগমারার ভবানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সিএনজিটি বাগমারা উপজেলার দেউলা নাটোর কোল্ডষ্টোরের পাশে প্রধান সড়কে বাঁশ বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলে স্কুলশিক্ষক সুজিত কুমার নিহত হন।
আহত সিএনজি চালক শাহীন আলমসহ অন্যান্য যাত্রীদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাগমারা হাসপাতালে ভর্তি করে। চালক শাহীন আলমের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজিটি উদ্ধার ও ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে। ২৯ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন সিএনজি চালক শাহীন আলম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
নিহতের পরিবারেরা থানায় মামলা না করায় পুলিশ সুযোগ বুঝে আটক ট্রাক বোঝাই বাঁশের মালিক ও ট্রাক চালকের কাছ থেকে অর্ধলক্ষ টাকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেয়। ট্রাকটি ছেড়ে দেয়ার পর থেকে এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার সচেতন মানুষ মনে করেন নিহতের পরিবারের সদস্য থানায় মামলা না করলেও সরকারী রাস্তায় অবৈধভাবে বাঁশ বোঝাই ট্রাকটি পার্কিং করার অপরাধে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করতে পারতো। কিন্তু পুলিশ মামলা না করে ট্রাক চালক ও বাঁশের মালিকের কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে ট্রাকটি ছেড়ে দেয় এবং বাঁশের মালিককে সেখানে কাজ করার অনুমতি দেয়। দুর্ঘটনাস্থলে বাঁশের কাজ চলার কারনে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে সিএনজি ও ট্রাকটি আটক করে রাখে। কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে থানার উপপরিদর্শক(এসআই) হুমায়ন কবির ট্রাক চালক ও বাঁশের মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে ৪৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে ট্রাকটি ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।
উল্লেখ্য, উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের চান্দেরআড়া গ্রামের কলেজ ছাত্রী রিমা আত্মহননের আসামী বাশারকে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন প্রকৃত বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং টাকা গ্রহনের ঘটনাটি অস্বীকার করেন। অপর দিকে থানার উপপরিদর্শক(এসআই) হুমায়ন কবির বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় আমরা কিছুই করতে পারিনি। প্রধান সড়কে গাড়ি পার্কিং করার অপরাধে পুলিশ কেন মামলা করল না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের দেখা করার কথা বলে ফোনটি কেটে দেন।
ইত্তেফাক/এএন
