ভারতের উত্তরাঞ্চলে রহস্যজনক অসুস্থতায় প্রতিবছর শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ফল লিচু। ভারতীয় ও মার্কিন গবেষকরা বলেছেন, খালি পেটে লিচু খাওয়া ছিল এই রহস্যজনক অসুস্থতার কারণ।
প্রায় দুই দশক ধরে ভারতের বিহারে সুস্থ শিশুদের মধ্যে আকস্মিক খিচুনি ও বেহুশ হয়ে যাওয়ার রহস্যময় অসুস্থতা দেখা যেত যাদের অর্ধেকই মারা যেত। চিকিৎসকরা এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিলেন। মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, লিচুর বিষক্রিয়ায় এই শিশুরা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া ভারতীয় শিশুরা বেশিরভাগ লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চলের বাসিন্দা যারা বাগান থেকে লিচু খেয়ে অসুস্থ হয়েছে। লিচুতে এক প্রকার বিষ থাকে শরীরের গ্লুকোজ উৎপাদন সক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলে। আর খালি পেটে খাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ওই শিশুগুলোর ব্লাডসুগার লেভেলের মাত্রা নিচে নেমে থাকে যার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে যায়।
অসুস্থ হওয়ার আগে রাতে চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে, এরপর তাদের মধ্যে খিচুনি ও বেহুশ হওয়ার লক্ষণ প্রকাশিত হয়। গবেষকরা বিহারের মোজাফফরপুরে ২০১৪ সালের মে থেকে জুন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করে। তাদের অসুস্থতার সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলের মস্তিষ্ক ফোলা ও খিচুনির রোগের সম্পর্ক খুঁজে পান।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের রোগের জন্য দায়ী ছিল আক্কি ফল যার মধ্যে হাইপোগ্লাইসিন ছিল যা শরীরে গ্লুকোজ তৈরি হতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। লিচুর মধ্যেও একই উপাদান পাওয়া গেছে। আর এতে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে লিচুই রয়েছে এই রহস্যজনক অসুস্থতার পেছনে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বাবা মাদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন শিশুরা লিচু খাওয়ার আগে রাতের খাবার খায় এবং লিচু যেন কম পরিমাণে খায়। আর এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে যেন শিশুদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া (লো ব্লাড সুগার) এর চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর থেকে রহস্যজনক মৃত্যুর হার বছরে ১০০ থেকে ৫০ এ নেমে এসেছে। বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস।
ইত্তেফাক/এসএসএ
