মামলার ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত আইনের শাসনের জন্য হুমকি: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৯:২১
 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত ও প্রসিকিউশনের দুর্বল মামলা পরিচালনার কারণেই চাঞ্চল্যকর অনেক হত্যা মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে যান। এজন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশনে যারা মামলা পরিচালনা করেন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। এই প্রশিক্ষণ দেওয়া না গেলে ত্রুটিগুলো কখনোই শোধরাবে না। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গতকাল বুধবার সরস্বতী পূজা উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলায় আমরা বাধ্য হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের খালাস দিয়েছি। মঙ্গলবারও একটা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় অপরাধীরা পিতা-পুত্র ও সাক্ষীদের হত্যা করেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সাক্ষী নেই। আর তদন্তও হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ। ফলে খালাস দিতে হয়েছে। কারণ আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না। 
 
তিনি বলেন, বাদীপক্ষের ১০-১৫ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে আসামিকে ফাঁসি দিয়ে বললাম মামলা প্রমাণ হয়েছে তাতে রায় হয় না। রায়ে আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করতে হয়। যাতে সাক্ষীর সাক্ষ্যের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়টি রায়ে প্রতিফলিত হয়। আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি আপনাদের তদন্তে অনেক ত্রুটি আছে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো জানার পাশাপাশি আইনের ব্যাখ্যাগুলো পর্যালোচনা করা উচিত। বিশেষ করে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কী ধরনের সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে হয় সেটি পুলিশ ও প্রসিকিউশনে যারা থাকেন তারা জানেন না। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন ও হাইকোর্টের বিচারকদের প্রশিক্ষণের কথা বলেছি। এটা করা না গেলে আমাদের জেনারেশনে সাংঘাতিক গ্যাপ হয়ে যাবে।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের মামলা যখন বিচারের জন্য আসে তখন আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষী দেখতে পাচ্ছি না। পর্যাপ্ত সাক্ষী না থাকলে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ওপর কীভাবে নির্ভর করতে হয় সেটাও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানে না। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য হচ্ছে স্বর্ণের চেইনের মতো, একটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া লাগানো। এটাই তারা জানে না। আমি আশা করব ফৌজদারি মামলার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তারা এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখবেন।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতি বাংলায় রায় দিচ্ছেন। কিন্তু যখন এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয় তখন শুনানি গ্রহণে বেগ পেতে হয়। কারণ আমাদের প্রধান আইনগুলো এবং আইনের ব্যাখ্যাগুলো ইংরেজি ভাষায়। এজন্য বাংলায় রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা থাকতে হবে।
 
জন্মদিন উদ্যাপন
 
৬৬তম জন্মদিনে কেক কাটলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সুপ্রিম কোর্টে নিজ খাসকামরায় গতকাল এ কেক কাটা হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ, প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারজানা ইয়াসমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জন্মদিনে প্রধান বিচারপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ।