ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মিশু সাব্বির। নাটকে নিয়মিত তাকে দেখা গেলেও বড়পর্দাতে খুব একটা সরব নন তিনি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। তার বর্তমান ব্যস্ততা, নাটকের মান ও বড়পর্দায় নিজের ভাবনা নিয়ে মুখোমুখি হলেন বিনোদন প্রতিদিনের—
সম্প্রতি মুক্তি পেল আপনার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা এমনই হয়’। চলচ্চিত্রটির দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
এটি আমার মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। প্রত্যাশার চাপটা একটু বেশিই ছিল। এছাড়া ছোটপর্দার অভিনেতাকে বড়পর্দায় দর্শক কিভাবে নেবেন এটাই সবচেয়ে বড় চাপ ছিল। আর এখনকার ব্যস্ততা চলছে শুটিং, চলচ্চিত্রটির প্রচার-প্রচারণা আর সিনেমা হল পরিদর্শনে। মাত্র তো এক সপ্তাহ হলো সিনেমা হলে রিলিজ পেয়েছে, আরো বেশকিছু সিনেমা হল আগ্রহী হচ্ছে। দর্শক আমার চরিত্রের প্রশংসা করছেন এটাই প্রাপ্তি।
ছোটপর্দার ব্যস্ততা কেমন চলছে?
ভালোবাসা দিবসের জন্য একটি শর্টফিল্মে কাজ করলাম। এছাড়া দুটি নাটকে কাজ করেছি। আর ধারাবাহিকের নিয়মিত শুটিং তো আছেই। এরমধ্যে ‘চলিতেছে সার্কাস’ প্রচার হচ্ছে, ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট’ আর ‘ চুইংগাম’ নামে নতুন দুটি ধারাবাহিক খুব শিগগিরই প্রচার শুরু হবে।
আমাদের নাটকের মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠছে, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
নাটকের প্রতি পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলী সবাই অনেক যত্নশীল। দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা কেউই এখন অভিনয় কিংবা কাজ দিয়ে নয়, নাটকের মান যাচাই করি গল্প দিয়ে। এজন্য আমি মনে করি গল্পকে নির্ভর করে নাটক বানানো উচিত। আমাদের নাটকের সংলাপগুলো অনেক সস্তা হয়ে গেছে। এখনকার নাটকের সংলাপে মানুষকে জোর করে হাসানোর একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেটা আগেকার নাটকগুলোতে ছিল না। গল্প আর সংলাপ সমৃদ্ধ হলে আমাদের নাটকের কাজগুলো আরো ভালো হবে।
আমাদের নাটকের মান কমে যাওয়ার দায়টা কি তাহলে পুরোপুরি লেখকদের?
এমনিতেই আমাদের ভালো স্ক্রিপ্ট লেখকদের সংখ্যা কম। তবে পুরোপুরি দায়টা কিন্তু তাদের নয়। দায়টা নাটকের বাজেট আর উপযুক্ত সম্মানীর। তারা যে টাকায় ৩/৪টি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখছেন সেই টাকায় তারা যদি একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতেন তাহলে তাদের লেখার মান এবং গল্পের মান ভালো হতো। তাই সবার আগে একটি নাটকের গল্প এবং বাজেটের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায় আপনাকে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
আমি দুই জায়গায় কাজ করে স্বাচ্ছন্দবোধ করছি। বড়পর্দায় কাজ করার আগ্রহ এবং কনফিডেন্ট দুটোই এখন তৈরি হয়েছে। এ কারণে সময়, সুযোগ মিলে গেলে বড়পর্দায় কাজ করতে চাই। পরিচালকরা যদি মনে করেন আমি বড়পর্দায় কাজ করার যোগ্য তবে সুযোগ পেলে আমি সেটার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করবো আমার কাজের মাধ্যমে।
ইত্তেফাক/এমএআর
