বিশ্বকে পাল্টে দেওয়া অভিবাসীরা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:১৭
 
অভিবাসী হয়েও বিশ্বের ইতিহাসে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছেন, এমন উদাহরণ কিন্তু নেহাত কম নয়। এক দেশে জন্ম, কিন্তু অন্য দেশে কর্ম। আর একটা সময় পরে অন্য দেশটাই নিজের দেশ হয়ে গিয়েছে। সফল হয়েছেন, প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। সীমান্তের ব্যবধান তুচ্ছ করে সারা পৃথিবীই তাদের চিনেছে এক নামে। আইনস্টাইন থেকে কার্ল মার্কস, স্টিভ জবস। এমন তালিকায় রয়েছেন বহু পরিচিত মুখ।
 
আলবার্ট আইনস্টাইন
জার্মানিতে জন্মেছিলেন ইহুদি আইনস্টাইন। এই দেশ থেকেই ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন। ত্রিশের দশকের প্রথম ভাগে চলে এসেছিলেন আমেরিকায়। ঘুরতেই এসেছিলেন। কিন্তু আর ফিরে যাওয়া হয়নি। ১৯৪০-এ আমেরিকার নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত এই পদার্থবিজ্ঞানী।
 
র‍্যাচেল উইজ
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। কিন্তু নামের পাশে ছিল অভিবাসী তকমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডন থেকে আমেরিকায় পালিয়ে এসেছিলেন তার বাবা-মা। আর ফেরা হয়নি দেশে। যদিও এখনো ব্রিটিশ এবং আমেরিকান, একই সঙ্গে দুই দেশের নাগরিকত্বই রয়েছে তার জিম্মায়।
 
জ্যাকি চ্যান
জন্ম হংকংয়ে। কিন্তু সাফল্য পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। কর্মসূত্রে তার বাবা থাকতেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়। স্টান্টম্যান হিসেবে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার। পরে মার্শাল আর্টিস্ট হিসেবে বিপুল সাফল্য পান হলিউডে। শুধু হলিউড নয়, সারা বিশ্বের একাধিক ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।
 
সিগমন্ড ফ্রয়েড
সারা বিশ্ব তাকে চেনে সাইকো-অ্যানালিসিসের জনক হিসেবে। হিটলার অস্ট্রিয়া আক্রমণ করলে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে লন্ডনে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন ফ্রয়েড। আর কোনো দিনই ফিরে যেতে পারেননি দেশে। শেষ পর্যন্ত লন্ডনেই মৃত্যু হয় বিশ্ব বিখ্যাত এই ‘অভিবাসী’ সংখ্যাতত্ত্ববিদের।
 
জেরি স্প্রিঙ্গার
‘আ পুওর রিফিউজি’—এই শব্দবন্ধ দিয়ে নিজেকে নিজেই সম্বোধন করতেন মার্কিন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ জেরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে লন্ডনের হাইগেট টিউব রেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল জেরির পরিবার। সেখানেই জন্ম হয় জেরির। এরপরেই প্রাণ বাঁচাতে আমেরিকায় পালিয়ে আসে জেরির পরিবার। ডেমোক্রেটিক পদপ্রার্থী হিসাবে সিনসিনাটির মেয়র হয়েছিলেন তিনি।
 
বব মার্লে
১৯৭৭-এ তার ‘এক্সোডস’ অ্যালবাম আলোড়ন তুলেছিল গোটা বিশ্বে। তার জন্ম জামাইকায়। তার পরিবার নিজেদের সিরিয়ার খ্রিস্টান বলে দাবি করে এসেছেন।
 
ইত্তেফাক/আরএ