সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ন্যায় বিচারের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগঠনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’।
সোমবার সংগঠনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি ৭১-এর ঘাতক দালাল মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রতিভূ হেফাজতে ইসলাম এবং তাদের সহযোগিরা ন্যায়বিচারের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে একের পর এক যেভাবে হুমকি দিচ্ছে সরকার কিংবা উচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ‘সুপ্রিম কোর্টে স্থাপিত ভাস্কর্যকে হেফাজতিরা মূর্তি বা প্রতিমা বলছে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক নির্জলা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এই ভাস্কর্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু দেশের উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল এবং সরকার উৎখাতের জন্য জামায়াত-বিএনপির সহযোগিতায় হেফাজতিরা মাদ্রাসার নিরীহ ছাত্রদের রাজধানীতে এনে যে মহাতাণ্ডব সৃষ্টি করেছিল তা ভুলে যাওয়া উচিৎ হবে না। যে ইরানে ইসলামী হুকুমত ও শরিয়া আদালত বিদ্যমান রয়েছে সেখানেও উচ্চতর আদালতের দেয়ালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘জাস্টিসিয়া’ ভাস্কর্য খোদাই করা রয়েছে। সৌদি আরব, মিশর, তুরষ্ক, ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ বহু মুসলমানপ্রধান দেশে ভাস্কর্য রয়েছে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। হেফাজতিরা সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য অপসারণের নামে আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সেখানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ দেশের সর্বোচ্চ আদালত ’৭১-এর শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে যার কয়েকটি ইতিমধ্যে কার্যকরও হয়েছে। আদালত ও বিচারব্যবস্থার প্রতি হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতারা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক অজয় রায়, কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, সাংবাদিক কামাল লোহানী, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআই
