নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ে পাঁচজনের ফাঁসি এবং ২১ জনের যাবজ্জীবন দণ্ড ছিল।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই রায় দেন। রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য প্রদান এবং লাশের সুরতহাল ও ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে সঙ্গে মিল না থাকার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ায় আদালত খালাস দিয়েছে। তবে আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে আব্দুল লতিফকে (৪৫) তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। তারা ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে এবং বলে আমরা থানা থেকে এসেছি; দরজা খুলুন। এরপর নিহতের স্ত্রী দরজা খুলে দিলে তারা লতিফকে জোর করে ধরে নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। পরদিন আড়াইহাজারের মোরদাসাদী গ্রামে তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন লতিফের ভাই আব্দুল হান্নান। এই মামলায় ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের দায়রা আদালত পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ইত্তেফাক/এমআই
