পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নামে দূর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৫:২৬
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় কৃষি অফিসার নুর আলম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অর্থ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি ফেস্টুন তৈরি ও বিতরণের নামে সার, বীজ, কীটনাশক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
 
পাটগ্রাম বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী সুত্রে জানা গেছে, কৃষি অফিসার নুর আলম পাটগ্রামে যোগদান করার পর থেকে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে নানাভাবে কৌশলে দুর্নীতি করে চলেছেন।
 
ব্যবসায়ীরা জানান, ইতিপূর্বে কৃষি অফিসার ডিজিটাল ক্যালেন্ডার কৃষকের মাঝে বিতরণ ও সচেতন করার লক্ষ্যে কৃষি ক্যালেন্ডার তৈরি করেন। কিন্তু সেই ক্যালেন্ডার তৈরিতে অর্থ ব্যয় করে সভা, সেমিনার করা হলেও সেটি এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। 
 
অপরদিকে কৃষি অফিসার নুর আলম ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাবার ড্যাম উপ- প্রকল্পের নামে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির অফিসের ফার্নিচার সরবরাহের নামে ভূয়া নাম্বার ছাড়া কোটেশন বিঞ্জপ্তি দেখিয়ে এবং রাবার ড্যাম প্রকল্পের মাছ চাষ, আম গাছ লাগানো, খাল খনন, কম্পোস্ট সার তৈরিসহ বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 
 
এছাড়াও কৃষি অফিসার বিলুপ্ত ছিটমহলে আম বাগান লাগানোর কথা বলে সেখানে নামেমাত্র চারা লাগিয়ে নামে অর্থ আত্মসাৎ করেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল গত ২৩ জানুয়ারি ১২১৮.৫২৭০.০৪১.১৬.০১৪.১৭/৩০(১০০) স্মারকে কৃষি অফিসার নুর আলম কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে উপজেলার সার বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের ডেকে ফেস্টুন তৈরি করার কথা বলে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের জন্য কৃষি অফিসার নিজে আহবায়ক সেজে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। 
 
ওই কমিটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করে কৃষি অফিসারের নিকট জমা দেবেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের নিকট টাকা চাওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে কৃষি অফিসার কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে ফেস্টুনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি অফিসার নুর আলমের মোবাইল নম্বর সম্বলিত ফেস্টুন তৈরি করবেন, সেগুলো এলাকার সার বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে ঝুলিয়ে দেবেন বলে কৃষি অফিসার জানান। 
 
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা জানান স্যার বলেছে তাই দিতেই হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা কি করব ব্যবসা করি, কৃষি স্যারের কথা শুনতে-ই হবে। 
 
অপরদিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ৪৪ জন ভুট্টা চাষীদের প্রশিক্ষণে ৩ শত টাকা ও ওষুধ ৭ শত টাকার দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে কৃষকদের নামেমাত্র ওষুধ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে স্বীকার করেন কৃষি কর্মকর্তা নুর আলম।
 
এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার নুর আলম জানান, কৃষকদের সচেতন করতে এবং অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ নিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু বিষয়টিকে কিছু লোক ভালোভাবে মেনে নিতে পারছে না। 
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/এএন