চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর-মানিকপুর রাস্তায় নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ পাওয়া উঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও পৃথকভাবে তদন্ত করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
সিডিউল না মেনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজটি করছিলো। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে মঙ্গলবার দুপুরে কাজ বন্ধ করে দেন ইউএনও নূরুল হাফিজ।
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কেন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকল্পটি কেন তদারকি করা হয়নি এ বিষয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গণির কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার গ্রেটার কুষ্টিয়া প্রকল্পের (জিকেপি) অধীন ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সন্তোষপুর-মানিকপুর রাস্তার এইচবিবি হেরিংবন বন্ড কাজ করার জন্য টেন্ডার হয়। চুয়াডাঙ্গার মেসার্স দেলোয়ার হোসেন দিনু কনস্ট্রাকশন ফার্ম কাজ পেয়ে এক সপ্তাহ পূর্বে কাজ শুরু করে।
কাজের গুণগত মাননিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করে। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেন।
এ নির্দেশ অমান্য করে মঙ্গলবার আবার ৩ নম্বর ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল হাফিজ বেলা ১ টার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর এই রাস্তার কাজ শুরু হয়। এলাকাবাসী এতে আনন্দিত হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজের অনিয়মের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে।
এদিকে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গণির মতামত নিতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল হাফিজ বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় কাজটি বন্ধ করাসহ এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, প্রকল্পটি পরিদর্শনকালে নিম্নমানের ইট ব্যবহার দেখতে পেয়ে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
ইত্তেফাক/এএন
