সনদ বাণিজ্য, ঢাকার বাইরে একাধিক ক্যাম্পাস, মালিকানা নিয়ে বিভেদ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী।
রায়ের পর এটর্নি জেনারেল বলেন, এখন থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। এ রায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ম্যাসেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের ক্ষেত্রে আদালত অত্যন্ত কঠোর।
মালিকানার বিভেদ, বার কাউন্সিলে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে দারুল ইহসানের পক্ষে-বিপক্ষে ১২টি রিট করা হয়। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের রায় দেয়। পাশাপাশি ট্রাস্টিদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছরের এলএলবি ডিগ্রি চার বছর করা এবং বার কাউন্সিলের ছাড়পত্র নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তির আদেশ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য-দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা সংকট, অনিয়ম-দুর্নীতি ও আউটার ক্যাম্পাসের মাধ্যমে ‘সনদ বাণিজ্য’ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ২০১০ সালের অক্টোবরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হককে প্রধান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিটি করে সরকার। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সেই কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়, যাতে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুপারিশ করা হয়। খবর বাসসের।
ইত্তেফাক/এএম।
