মেলা জমে উঠেছে। প্রায় সব স্টলেই চলে এসেছে নতুন বই। প্রত্যেক স্টলেই পাঠকের আনাগোনা। এসব কেনাবেচার মাঝেই বাংলা একাডেমি চত্বরে কিছু কিছু স্টলে তরুণদের ভিড় চোখে পড়ে। এই তরুণদের ভিড় সব অনলাইন বুক স্টোরকে ঘিরে।
কাগজের বই নিয়ে পাঠকদের মাঝে আবেগ কাজ করলেও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বইছে ই-বুক-এর হাওয়া। বইমেলাতেও ই-বুক পড়বার সুবিধা নিয়ে হাজির বেশকিছু স্টল। তরুণ-তরুণীদেরই বেশি আগ্রহ সেসব স্টলকে ঘিরে। বেঙ্গল ই-বই, সেই বই, বাংলা লিংক ই-বুক সেন্টার এ ধরনের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইন বুক স্টোর সুবিধা নিয়ে হাজির পাঠকদের সামনে। বইপড়া বিশ্বব্যাপী কমছে। তরুণদের মাঝে অনলাইন বুক সার্ভিস নিয়ে হাজির এসব প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মত বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অ্যাপসগুলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া শিমু বললেন, মোবাইলেই থাকি সারাদিন, নয়তো ল্যাপটপে। ই-বুকের অ্যাপস থাকলে বই পড়াও হবে। ঘরে বসেই যদি বই পাওয়ার থাকে তাহলে তো বই কেনার দরকার পড়ে না। মোবাইল ফোনে অ্যাপ্স্ ডাউনলোড করে বই পড়ার সুবিধা পাওয়া যাবে।’ সত্যিই তাই এসব অ্যাপস্ মোবাইলে ডাউনলোড করে নিয়ে খুব কম খরচে বই পড়তে পারবেন। এছাড়া, খুব কম খরচে নতুন নতুন বই পড়ার সুযোগও থাকছে। বই বিনামূল্যে পড়বার সুযোগ থাকছে। তবে কিছু বিশেষ গ্রন্থ রয়েছে যা অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে পড়া যাবে। ‘সেইবই’ মোবাইল ফোনে বই পড়বার অ্যাপস। এই বই ভাণ্ডারে অধিকাংশ বই বিনামূল্যে পড়া যাবে। তবে কিছু বই টাকা দিয়ে পড়তে হবে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের বেঙ্গল পাবলিকেশন্সেও রয়েছে ই-বুক সেবা। বইমেলায় এখানে রেজিস্ট্রেশন করলে রয়েছে ফ্রি এবং কম খরচে বই পড়ার সুযোগ। বাংলা লিংকের গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ‘বইঘর’ সেবা। গুগ্ল স্টোর থেকে ই-বুক অ্যাপ ডাউনলোড করে বাংলা লিংক ফোন গ্রাহকরা জনপ্রিয় লেখকদের বই কম খরচে পড়বার সুযোগ পাবেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েব লিংক — sheiboi.com, www.bengalboi.com.
মেলামঞ্চে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মরণ
বিকেল চারটায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সরদার জয়েনউদ্দীনের জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী, সরদার জয়েনউদ্দীনের পুত্র জ্যোতি জয়েনউদ্দীন এবং মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা। সভাপতিত্ব করেন ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন।
সরদার জয়েনউদ্দীন : জীবনদর্শন ও সাহিত্যসাধনা শীর্ষক প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেন, সাংবাদিকতা এবং সাহিত্যের জগতে সরদার জয়েনউদ্দীন সর্বদা ছিলেন প্রগতির পক্ষে, মানবতার পক্ষে। একসময়, পঞ্চাশ-ষাটের দশকে, ঢাকার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় অবশ্য উচ্চার্য নাম ছিল সরদার জয়েন উদ্দীন। কিন্তু পরিবর্তমান রুচি ও সমাজসে াতে এখন তিনি প্রায়-বিস্মৃত এক নাম।
আলোচকবৃন্দ বলেন, সরদার জয়েন উদ্দীন কথাসাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রন্থমেলার সূত্রপাতে তাঁর পরিকল্পনা ও ভূমিকা অবিস্মরণীয়। এদেশের গ্রাম-সমাজ, বিচিত্র পেশাজীবী মানুষ তাঁর গল্প ও উপন্যাসে ফুটে উঠেছে গভীর পর্যবেক্ষণে, সুনিপুণ শিল্প-আঙ্গিকে এবং দরদি ভাষায়। শিশুসাহিত্যেও তিনি এক অবশ্য-উচ্চার্য নাম। সংগঠক হিসেবেও তিনি অনন্য।
মোড়ক উন্মোচন
গতকাল বইমেলায় ১৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’। বইটি প্রকাশ করেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রকাশনা সংস্থা বঙ্গবন্ধু বার্তা। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি অ্যাড. মোল্লা মো. আবু কাওছার।
বিনয় দত্তের গল্পগ্রন্থ ‘চিলতে মেঘ ও কুহুকেকার গল্প’ এর মোড়ক উন্মোচন হলো গতকাল মেলামঞ্চে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বই মোড়ক উন্মোচন কেন্দ্রে এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম, কবি সঞ্জীব পুরোহিত প্রমুখ। বইটি প্রকাশ করেছে ‘চৈতন্য’।
নতুন বই
গতকাল মেলার ৮ম দিনে নতুন বই এসেছে ১০৯টি। এরমধ্যে চৈতন্য প্রকাশ করেছে কবি প্রান্ত পলাশের কাব্যগ্রন্থ ‘আমার কীরাম জানি লাগে’, জনপ্রিয় প্রকাশনী এনেছে শ্যাম সুন্দর শিকদারের ‘গোলাপের কাছে যাব’, কথা প্রকাশ এনেছে পিয়াস মজিদের ‘কবিতাজীবনী’, প্রান্ত প্রকাশন এনেছে গাজী মুনছুর আজিজের ‘অনন্য আরো’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘ফুলিদের বাস’, সাহস পাবলিকেশন্স এনেছে এমদাদুল হক হূদয়ের ‘ এ জার্নি বাই মীরাক্কেল’, নন্দিতা প্রকাশ এনেছে মাহবুব মোর্শেদের ‘প্রজনন স্বাস্থ্য বিজ্ঞান’, জাগৃতি প্রকাশনী এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ভূতের বাচ্চা সোলায়ামান’, অনন্যা এনেছে গোলাম মাওলা রনির ‘তাসের ঘরে বাঁশের খুঁটি’, হুমায়ূন আহমেদের ‘মিসির আলীর গল্পমালা’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে ইকবাল হাসানের ‘ছায়ামুখ ও আশ্চর্যকুহক’, রয়েল পাবলিশার্স এনেছে শশিউর রহমানের ‘বিজ্ঞানের হাজার প্রশ্নের জবাব’, ঐতিহ্য এনেছে ইমরুল কায়েসের ‘আনলাকি থারটিন অতপর প্যারিস’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে সারওয়ার উল ইসলামের ‘আমরা করব জয়’।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন নাদিরা বেগম, আবুবকর সিদ্দিক, আজগর আলীম এবং শফিউল আলম রাজা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি), সুমন কুমার শীল দোতারা), আবদুস সোবহান (বাংলা ঢোল)।
আজকের অনুষ্ঠান
আজ বৃহস্পতিবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা ভাষায় ইতিহাস চর্চা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।
