স্কুলছাত্র আদনান হত্যা মামলায় সাতজন তিনদিনের রিমান্ডে

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:১৮
রাজধানীর উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান কবীর হত্যা মামলায় ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগবস’ নামের গ্যাংয়ের দলনেতাসহ গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্য থেকে সাতজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। অন্যদিকে একজনকে মাদক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহিন মিয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।
 
এসআই শাহিন মিয়া জানান, যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে তারা হলো— শাহরিয়ার বিন সাত্তার ওরফে সেতু (২২), আকতারুজ্জামান ওরফে ছোটন (১৯), সেলিম খান (২৩), ইব্রাহিম হোসেন ওরফে সানি (২৮), মিজানুর রহমান সুমন (২২), জাহিদুল ইসলাম জুইস (২১) ও শাহীদুর রহমান (১৭)।
 
বৃহস্পতিবার তাদের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে (২০ নম্বর কোর্ট) হাজির করে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডের নেয়ার আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১। তাদের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় রমজান মোবারক (১৭) নামের আরও এক কিশোরকে। তবে তাকে আদনান হত্যা মামলায় আসামি করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করে র্যাব। ওই মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার কাছ থেকে ৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। এ মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই আল আমিন। আদনান হত্যা মামলায় রমযানকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন মামরার তদন্ত কর্মকর্তা।
 
এর আগে গ্রেফতারকৃত ৮ জনকে বুধবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সেতু, ছোটন এবং জাহিদুল ইসলাম জুইস হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করলেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আলী হোসেন খান জানান, সময় স্বল্পতার কারণে গ্রেফতারকৃত ৮ জনের কাউকেই ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। রিমান্ডে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হবে। তখন তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
 
বৃহস্পতিবার রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া সাতজনসহ আদনান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো। আগে গ্রেফতার হওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা হলো— খন্দকার মেহরাব, সোহাগ, রনি এবং সাফিন। সাদাফ জাকির এবং নাফিজ ডন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়নি। ডন এখন কারাগারে আছেন। সাদাফ জারিক আছেন গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে।
 
উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আদনান কবীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আদনানের বাবা কবীর হোসেন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 

ইত্তেফাক/এএম।