পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে কমিশন দরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২১:৩০

পঁচাত্তরে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে একটি কমিশন গঠন করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পেছনে যেই ষড়যন্ত্র ছিল, সেই ষড়যন্ত্র কিভাবে উদ্ঘাটন করা যায়; ইতিমধ্যে তার জন্য একটি কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। আমরা আশা করি, এই বিষয়ে অবশ্যই বাংলাদেশ একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। নাহলে ভবিষ্যতে আবারও ষড়যন্ত্রকারীরা সেই ধরনের ষড়যন্ত্রের রাস্তা তৈরি করতে পারে।’ 

আজ শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপে সাংস্কৃতিক সংগঠন দৃষ্টি আয়োজিত একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিকথা- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সবকিছুই আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই হয়েছে। উনিই ছিলেন মূল চরিত্র। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও এর আগের ২৩ বছর; পুরো সময়টাই শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা। এবং এই যে মুক্তিযুদ্ধের খণ্ড খণ্ড ইতিহাস; এ ইতিহাস এখন পর্যন্ত  আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত অনেক অজানা রয়ে গেছে। যেহেতু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে, বাংলাদেশে একটা বিকৃত সমাজ ব্যবস্থা, বিকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা, ইতিহাস বিকৃত লুটেরা অর্থনীতি  গড়ে তোলার জন্য জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সেভাবেই দেশ পরিচালনা করেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান, গত ১০ বছরে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যে সত্যের সন্ধানে আছি, সংগ্রামে আছি, সেই সত্যের সংগ্রামে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি। আমরা এই ১০ বছরে যে কমিটমেন্ট ছিল, ৩০ লাখ শহীদের প্রতি-সেই সময়ে যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা- আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সরকার সেটা করেছে। বিচারের রায়ও কার্যকর করেছে। যে বিচার এখনো চলমান আছে। জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল আমাদের- জাতি ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়- আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম সব শিক্ষাঙ্গনের ছাত্ররা এ দাবিতে সোচ্চার ছিল। এ দাবি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেকে জীবন দিয়েছে। আমাদের মিছিল থেকে অনেকে হারিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু দমে যাই নাই। আমরা সেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছি। এবং সেই রায় কার্যকর করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সমগ্র জাতি আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এখন মুক্তিযুদ্ধকে লালন করে। প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে জানতে চায়। আমাদের দেশ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত। আমরা যেই স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম; ষড়যন্ত্রকারীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৮ বছরের যে বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে ডাকসু কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদের নির্বাচন হয়েছে, সেই তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এগিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে বাসচাপায়  মা-মেয়ে ও কলেজছাত্রসহ নিহত ৪ 

আয়োজক সংগঠনের নেতা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বেতার শিল্পী রফিকুল আলম, আবৃতিশিল্পী আশরাফুল আলম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/কেকে