বগুড়ার শেরপুরে দিনে-দুপুরে ট্রাক আটকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবলসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামস্থ নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার ফুলতলা গ্রামের শাহজামাল সেখের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম (২৭) ও তার সহযোগী একই গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২৫)। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম (ক-নং-৩৪৬২১) দশদিনের ছুটিতে বাড়ি আসেন। এক পর্যায়ে গত ১৯মার্চ বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর আঞ্চলিক সড়কের আম্বইল নামক স্থানে আরিফুল ইসলাম তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে বেরিকেড সৃষ্টি করে একটি ট্রাকের গতিরোধ করে।
এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায়। এরপর কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর তা ফেরত দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ট্রাকের চালক সজীব সেখ, হেলপার রবিন আহম্মেদ ও মুরগির খামারের ব্যবস্থাপক মো. শিপনকে বেধড়ক মারপিট করে। একইসঙ্গে তাদের শরীর তল্লাশি করে মুরগি বিক্রির ১লাখ ১০হাজার টাকা ও তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। পরে থানায় ট্রাক নিয়ে থানায় আসার কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে শেরপুর শহরের দিকে চলে যায়।
ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার পর থানায় এসে তাদের সন্ধান না পেয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলা করেন। উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া কলোনি এলাকার বাসিন্দা ট্রাকটির চালক সজিব সেখ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, এই ছিনতাইয়ের সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুল জড়িত। এরপর তাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন তিনি। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও নাম-পরিচয় বলেন। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আবু সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ শিবগঞ্জে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২
শনিবার (৩০মার্চ) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
