রাজধানীতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। মামলা, জরিমানা কোনটাতেই কাজ হচ্ছে না। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। তারা বলেছেন, ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে রড বসানোর পরও তাদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। শত অনুরোধ করার পরও অধিকাংশ মোটরসাইকেল চালককে পরানো যাচ্ছে না হেলমেট। তবে হেলমেট পরানোর ব্যাপারে তারা পেট্রোল পাম্প মালিকদের অনুরোধ জানাবেন, যাতে করে তারা হেলমেট ছাড়া তেল বিক্রি না করেন। এদিকে গতকাল শনিবার থেকে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। প্রথম দিন ১১০ জন চালককে জরিমানা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ’র সঙ্গে যোগোযোগ করেও তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী, দেশের ছয় দশমিক সাত ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মোটরসাইকেল।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধু আইন নয়, এ বিষয়ে বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতা। নিয়মমতো সব গাড়িই সিগন্যালে দাঁড়ায়। ব্যতিক্রম শুধু মোটরসাইকেল। সিগন্যাল অমান্য করে এঁকেবেঁকে চলে যায়। ফুটপাথে উঠে পথচারীদের ঝুঁকিতে ফেলে। রাজপথের আতঙ্ক এই দুই চাকার যান। উল্টো পথে, কখনো নিষিদ্ধ বাঁকে মোড় নিয়ে, কখনো আবার বিপজ্জনক গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরজুড়ে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত ফুটপাথে যান চলাচল বন্ধে রুল জারি করলেও এখনো তা চলছে ট্রাফিক বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে।
কয়েকজন পথচারী বলেন, যারা মোটরসাইকেল চালায় তাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। তা না হলে কোন ভাবেই ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে বেপরোয়া মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না।
ঢাকা মেট্রোপিলন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) প্রবীর কুমার রায় বলেন, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের নিয়েই বেশি সমস্যা পোহাতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। সরাসরি কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হলে এর সমাধান সম্ভব না।
জরিমানা: বিআরটিএ’র পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার বলেন, বিআরটিএর তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালনা এবং হেলমেট পরিধান না করার অভিযোগে ১১০ জন মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ৯২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। আগারগাঁও, আরামবাগ এবং রমনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
ডিএমপি কমিশনারের বার্তা: ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের উদ্দেশে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া। সম্প্রতি এক বার্তায় তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে চালক ও আরোহী হেলমেট ব্যবহার করছেন না এবং ক্ষেত্র বিশেষে মোটরসাইকেলে দুই এর অধিক আরোহী চলাচল করছেন। এসব আইনবহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। ওই বার্তায় কমিশনার নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করে যানবাহন চালানো এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
