ভারতে এক বছর উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের কুস্তিগীররা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:৪০
গুয়াহাটিতে গত ১২তম এসএ গেমসে বাংলাদেশের কুস্তিগীররা মোট ১০টি পদক  অর্জন করে। এর মধ্যে মেয়েরা পেয়েছিলো ৩টি রৌপ্য ও ৫টি ব্রোঞ্জ এবং ছেলেরা পেয়েছিলো ২টি ব্রোঞ্জ, সব মিয়ে মোট ১০টি পদক। গেমস চলাকালে আসামের হোটেল তাজ ইন্টারন্যাশনালে সাউথ এশিয়ান কুস্তি ফেডারেশনের মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সে মিটিংয়ে  বাংলাদেশের কুস্তির উন্নয়নে ভারতের কাছে দীর্ঘমেয়াদী বাংলাদেশের কৃস্তিগীরদের অনুশীলন প্রদানের কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ এ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান পালোয়ান। 
 
বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতীয় রেসলিং ফেডারেশন বাংলাদেশের ১৬জন কুস্তিগীরকে এক বছর মেয়াদী উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ রেসলিং ফেডারেশনকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে।
 
বাইরের দেশে বছরব্যাপী অনুশীলন পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম ঘটনাও বটে। ভারত বাংলাদেশের কুস্তিগীরদের অনুশীলনের পাশাপাশি থাকা, খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।  ভারতে খেলোয়াড়দের যাওয়ার জন্য যাতায়াত খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। আগামী ১মার্চ থেকে বাংলাদেশের কুস্তিগীরদের অনুশীলন  শুরু হবে উত্তর প্রদেশের নবাবগঞ্জ গনদার নান্দিনী নগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। বাংলাদেশ দল অনুশীলনের জন্য ভারতে রওনা হবে চলতি মাসের ২৭ ফেব্রুয়ারি।
 
ভারতে বছরব্যাপী উন্নত প্রশিক্ষণ এর ব্যাপারে বাংলাদেশ এ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি খুবই বড় খবর ভারত আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রেসলারদের এক বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এর আগে এতদিন বাইরের দেশে কোন ফেডারেশন তার খেলোয়াড়দের অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এক বছর প্রশিক্ষণ পাওয়া এই ১৬জনের মধ্য থেকে বাছাই করে আগামী এসএ গেমসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ দল গঠন করা হবে।  তিনি আরো জানান, ভারত এরপর বাংলাদেশী ৮থেকে ১০বছর বয়সি ছেলেদের ৫বছর মেয়াদী বিকেএসপির মত প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। আর আগামী এসএ গেমস এর আগে ৪মাস ব্যাপী মেয়েদের প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করবে। ভারতের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী এই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আমাদের কুস্তিগীররা নিজেদের ঠিকমত গড়ে তুলতে পারলে আগামীতে আমরা এসএ গেমস বা যেকোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক পাবো বলে আশা করি। আমি ধন্যবাদ জানাই ভারত রেসলিং ফেডারেশনকে বাংলাদেশের রেসলারদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
  
ভারতে বছরব্যাপী উন্নত প্রশিক্ষনের জন্য বাংলাদেশ দল পাঠানোর খরচের জন্য কুস্তি ফেডারেশন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কাছে টাকা চেয়ে আবেদন করেছে। দুই প্রতিষ্ঠান যদি টাকা দিতে না পারে তাহলে ফেডারেশন খেলোয়াড়দের যাতায়াত খরচ বহন করবে। আর এক বছরের মধ্যে যদি কোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং সে প্রতিযোগিতায় যদি বাংলাদেশ দল অংশ গ্রহন করে তাহলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা ভারত থেকে এসে বাংলাদেশ দলে অংশ গ্রহন করবে।  আর বাংলাদেশ দলের জন্য যদি এই ১৬জন খেলোয়াড়কে প্রয়োজন না হয়  তাহলে তারা বছরব্যাপী ভারতেই উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহনে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। 
 
যেসব কুস্তিগীর ভারতে এক বছরের উন্নত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন : গ্যানেশ্বর দেওয়ান চাকমা-বিজিবি, উজ্জল মিয়া-বিজিবি, মেজবাহ উল মোকারম-বিজিবি, শাহীনুর ইসলাম-বিজিবি, অব্দুর রশিদ-বিজিবি, আল রাজীব-বিজিবি, অনোয়ার হেসেন-বাংলাদেশ আনসার, চন্দ্র লাল-বাংলাদেশ সেনাবহিনী, কামুরুজ্জামান-বাংলাদেশ পুলিশ, অংকু চাকমা-বিজিবি, নুরুল ইসলাম-বিজিবি, মাহফুজ হোসেন-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এসএম মোকারম হোসেন-বিজিবি, মোহাম্মদ আলী আমজাদ-বাংলাদেশ আনসার ও সিরাজুল ইসলাম-বিজিবি।
 
ইত্তেফাক/মাহাদী