স্প্যানিশ লা লিগা

জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল রিয়াল

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫৯
পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল ওসানসুনাকে শনিবার ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লীগায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দিনের আরেক ম্যাচে ‘এমএসএন’ খ্যাত সম্মুখ সমরের তিন সেনানী লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারের লক্ষ্যভেদে ৬-০ গোলে আলাভেসকে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা।
 
অবশ্য দুই ম্যাচ কম খেলার পরও বার্সার চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। 
 
এদিন দু’টি ম্যাচেই ইনজুরি থাবা মেরেছে। বার্সার রাইট ব্যাক এ্যালেইক্স ভিদাল এদিন ডান পায়ের গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়েছেন। যে করাণে অন্তত ৫ মাসের জন্য মাঠের বাইরে কাটাতে হবে তাকে। অপরদিকে ওসানসুনার তানো বেনিনও পায়ের ইনজুরিতে পড়েছেন।
 
খেলা শেষে রিয়ালের কোচ জিদান বলেন, একটি শীর্ষ দল নীচের সারির একটি দলের মোকাবেলা করলেও এই ম্যাচে সে রকম বড় কোন পার্থক্য ধরা পড়েনি। তারপরও আপনাকে এই ম্যাচে লড়তে হবে এবং প্রতিপক্ষ দলটি রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলাটিকে কঠিন করে তুলেছিল। সংগ্রম করতে হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি।
 
নিজেদের মাঠে ম্যাচটি বেশ সাবলীল ভাবেই শুরু করেছিল স্বাগতিক ওসানসুনা। কিন্তু ১৫তম মিনিটেই ইনজুরির কবলে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় বেনিনকে। ইসকোর সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পা ভেঙ্গে যায় এই ডিফেন্ডারের। ফলে কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে তলানীর ক্লাবটি। এরপর ফের গুছিয়ে খেলা শুরু করলেও ৯ মিনিট পর অর্থাৎ ম্যাচের ২৪তম মিনিটে তাদেরকে ফের ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেন বর্ষসেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। করিম বেনজেমার পাসের বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন রোনালদো।
 
তবে গোল হজমের পরও দমে না গিয়ে দ্বিগুন উৎসাহে সফরকারী রিয়ালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওসানসুনার খেলোয়াড়রা। ৩৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দলকে সমতায় ফেরান সার্জিও লিওন। দারুন ক্ষিপ্রতার সঙ্গে রিয়ালের রক্ষনভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে ইমানুয়েল রিভিয়েরে ও লিওনের দু’টি আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করে রিয়ালকে সমতায় রাখেন গোলরক্ষক নাভাস। 
IMG0
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ওসানসুনা আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে রিয়ালের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলে। এরই ফাঁকে একটি প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করে সফরকারীদের ফের এগিয়ে দেন ইসকো। ৬২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ইনজুরি টাইমে লুকাস ভাজকুইজের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। 
 
এর আগে অনুষ্ঠিত লিগের আরেক ম্যাচে বার্সেলোনা বড় ব্যবধানে জয় পেলেও ওই ম্যাচেও দেখা গেছে পেশি শক্তির ব্যবহার। মাঠে এবং মাঠের বাইরেও এমন উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়েছে। খেলা শুরুর আগেই দুই দলের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে গুরুতর আহত এক সমর্থককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবশ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুই দলের পক্ষ থেকেই এই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। 
 
খেলা শেষে বার্সা কোচ লুইস এনরিখ বলেন, ফুটবলের দৃষ্টিকোন থেকে ভাল একটি অনুভূতি নিয়েই আমি এই অ্যাওয়ে ম্যাচটি খেলতে এসেছিলাম। ম্যাচের এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে সেটি অর্জিতও হয়েছে। কিন্তু অ্যালেক্সিসের ইনজুরিতে আমি খুবই হতাশ। বিশেষ করে যেভাবে এবং যেখানে তিনি চোটটি পেয়েছেন তা হতাশার সৃস্টি করেছে।
 
তার পায়ে অস্ত্রোপাচার করতে হবে এবং মৌসুমের বাকী সময় তাকে মাঠের বাইরেই কাটাতে হবে বলে নিশ্চিত করেছে বার্সা কর্তৃপক্ষ। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে যে দলটি আগের ম্যাচে লীগ কাপে মাঠে নেমেছিল তার ছয়টি পরিবর্তন নিয়ে এদিন একাদশ সাজিয়েছিলেন এনরিখ।
 
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে ভিদালের যোগান থেকে গোলের সুচনা করেন লুইস সুয়ারেজ (১-০)। তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন নেইমার। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বল সুয়ারেজের মাথার স্পর্শ লেগে গোলরক্ষকের হাতে লেগে নেইমারের কাছে এলে সেটি জালে জড়িয়ে দেন তিনি (২-০)। দ্বিতীয়ার্ধে সামর্থ্য বাড়িয়ে নিয়ে মাঠে নামে কাতালান দল এবং যোগ করে আরো চারটি গোল। ৫৯তম মিনিটে মেসি নিজেই একটি গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। চার মিনিট পর অ্যালেক্সিস এর আত্মঘাতি গোলে ব্যবধান ৪-০তে উন্নীত হয়। ৬৫তম মিনিটে ইভান রাকিটিচ এবং ৬৭তম মিনিটে সুয়ারেজ ফের গোল করলে ৬-০ গোলের ব্যবধান রচনা করে বার্সেলোনা। 
 
এদিন ডিপোর্তিভো লা করুনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৭ম স্থানে উঠে এসেছে অ্যাথলেটিক বিলবাও। আর গোল শূন্য ড্র হয়েছে বেতিস ও ভ্যালেন্সিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি। 
 
ইত্তেফাক/রেজা