চলমান পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনায় আবারো নড়েচড়ে বসেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। একইসাথে পাকিস্তান ক্রিকেট এই ধরনের ঘটনায় আবারো সমালোচনা মুখে পড়েছে।
সাবেক পাকিস্তানী অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ মনে করেন স্পট ফিক্সিংয়ের মত ঘটনা পিএসএলকে এক সময় ধ্বংস করে দিবে, এর ফলে লীগের মর্যাদা দিনে দিনেই কমে যাবে।
তার মতে বিশ্বের অনেক ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রই পিএসএল’র প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও সমর্থন হারিয়ে ফেলবে। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের নিজেদের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই এই সমস্ত আসর থেকে সড়ে যাওয়া উচিত বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন।
ইতোমধ্যেই শারজিল খান ও খালিদ লতিফের মত তরুনরা দূর্ণীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং তাদেরকে পিএসএল থেকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে তদন্তের মধ্যে আনা হয়েছে ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ ইরফানসহ আরো তিন খেলোয়াড়কে। ইতোমধ্যেই স্পট ফিক্সিং নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। শনিবার লাহোর কালানডার্সের বিপক্ষে ইরফানকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের দল থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। মিয়াঁদাদ বলেন, আমাদের লীগগুলো এই ধরনের বিতর্কের বাইরে ছিল। কিন্তু পিএসএলও এর মধ্যে চলে এসেছে। এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
যদিও সাবেক আরেক অধিনায়ক আমির সোহেল এই বিষয়টিতে একেবারেই বিস্মিত হননি। তার মতে টি২০ লীগ ও টুর্নামেন্টগুলো দূর্নীতির অন্যতম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাম্প্রতীক সময়ে ঘরোয়া টি২০ ম্যাচগুলোতেও এ সমস্ত ঘটনায় নজিড় রয়েছে। দুবাইয়ে পিএসএল শুরু করার আগে পিসিবি’র অবশ্যই অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত ছিল। কারন স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের নিজেদের জায়গা হিসেবে এই অঞ্চল বিশ্বব্যপী পরিচিত।
সাবেক ওপেনার ও পাকিস্তান দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক ও প্রধান কোচ মহসিন খান বলেছেন পিএসএল’এ এ ধরনের ঘটনা নিয়ে তিনি সবসময়ই শঙ্কিত ছিলেন। এজন্য অবশ্য তিনি পিসিবিকেই দায়ী করেছেন। এমন অনেক খেলোয়াড় পিএসএল’র বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যাদের বিরুদ্ধে অতীতে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক টেস্ট স্পিনার ইকবাল কাসিম বলেছেন সাম্প্রতীক বিতর্কে পিএসএল দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলো।
ইত্তেফাক/রেজা
