হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে অতিরিক্ত বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর রিট আবেদন পর্যবেক্ষণ দিয়ে নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, দশ বিচারপতির মামলার রায় অনুযায়ী রিট আবেদনকারী যদি চান আপিল বিভাগে রিভিউ বা আপিল দায়ের করে যথাযথ প্রতিকার পেতে পারেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আটজন অতিরিক্ত বিচারককে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি। এই নিয়োগ না দেওয়ায় বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রবিবার হাইকোর্টে রিট করেন ওই বিচারপতি।
রিট আবেদনে বলা হয়, হাইকোর্টের নয় জন অতিরিক্ত বিচারকের দক্ষতা ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। সেই সুপারিশ মোতোবেক নয় জনকেই নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় আট জনকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর নাম নেই। প্রধান বিচারপতির সুপারিশ থাকার পরেও বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়া সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের লংঘন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।
পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। এতে আমি মনে করি আমাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, এর আগে অতিরিক্ত ১০ বিচারকের বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, বিচারক নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ প্রাধান্য পাবে। আর যদি নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য হন, সেক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে। এক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টে স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া অতিরিক্ত বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের একটি আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এজন্য হাইকোর্ট বলেছে, ফরিদ আহমেদ শিবলীর বিষয়টির নিষ্পত্তিও আপিল বিভাগে হওয়া প্রয়োজন।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম
