‘প্রশাসনের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চায় না বিচার বিভাগ’

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৮
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোন দ্বন্দ্ব নেই। প্রশাসনের সঙ্গে বিচার বিভাগ মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চায় না। কোন ধরনের সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হোক এটাও কারো কাম্য নয়। আমরা চাই বিচারকদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত চাকুরি বিধিমালার গেজেট জারি করা হোক। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত চাকুরি বিধিমালার গেজেট জারি করতে সরকারের পক্ষ থেকে আবারো সময় আবেদন দাখিল করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে আপিল বিভাগ এসব মন্তব্য করেন। 
 
আদালত বলেন, আপনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) যে দরখাস্ত দিয়েছেন সেটি স্পষ্ট নয়। কেন সময় চাচ্ছেন তা নির্দ্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে নতুন করে আবেদন দাখিল করুন। সোমবার বিষয়টি কার্যতালিকায় থাকবে। 
 
রবিবার আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে ‘বংলাদেশ বনাম মাসদার হোসেন এবং অন্যান্য’ মামলাটি ছিলো। সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন, বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক। 
 
শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম গেজেট জারি করতে দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবারো আবেদন করেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, কেন আবারো সময় চাচ্ছেন এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছুই উল্লেখ করেননি? বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতের দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিলো। সেটাও তো করেননি? কেন করেনি সেটা লিখিত আকারে ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে অবহিত করুন? 
এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি নিজেও চাই বিধিমালার গেজেট হয়ে যাক। ঝামেলা না থাকুক। এজন্য সময় চাচ্ছি। আদালত বলেন, বিধিমালা না থাকার কারণে নিম্ন আদালতের কিছু বিচারক শৃঙ্খলার বাইরে চলে যাচ্ছে। শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করা না করার বিষয়টি স্পষ্ট করে আমাদেরকে জানান। প্রশাসনের সঙ্গে বিচার বিভাগ দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না। অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা সংবিধান পেয়েছি। এই সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্ট। এটা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।   
 
পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ইতোপূর্বে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারির প্রয়োজন নেই। আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে এটার বিশেষ অংশ সংশোধন করে পুনরায় পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সেই কথাটি বলেছি। কিন্তু আদালত আমাকে লিখিতভাবে বিষয়টি উল্লেখ করে দরখাস্ত দাখিল করতে বলেছেন। সোমবার সেটি দেওয়া হবে। 
 
তিনি বলেন, রুলস ফ্রেইম করবেন তো রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি একবার অপারগতা প্রকাশ করেছেন বা এটার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন। কাজেই ফের যদি এটা করতেই হয় তাহলে সেটি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির কাছেই পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো উচিৎ। সেটিই করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকারও চায় গেজেট হোক। গেজেট হলে অচলাবস্থা কেটে যাবে। 
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম