ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জে ব্যাটসম্যানরা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৯:৩৯

হিসাব বলছে, হায়দরাবাদ টেস্টে এখনও তিন ধরনের ফলাফলেরই সুযোগ আছে— বাংলাদেশের জয়, পরাজয় অথবা ড্র।

তবে বাস্তবতা হলো টেস্টের পঞ্চম দিন পুরোটা হাতে মাত্র ৭ উইকেট নিয়ে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখাও কঠিন। আর জিততে হলে এই ৭ উইকেট হাতে নিয়ে করতে হবে আরও ৩৫৬ রান। শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য ৪৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গতকাল টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১০৩ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ।

এই টেস্ট পঞ্চম দিনের সমীকরণে নিয়ে আসার জন্যও ধন্যবাদ পেতে পারেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। মূলত অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দারুণ ধৈর্যশীল একটা সেঞ্চুরিতে ভর করে এই প্রতিযোগিতায় এখনও টিকে আছে সফরকারী বাংলাদেশ।

ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্রথম দুই দিনেই। ভারত ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশ দ্রুতই হারিয়ে ফেলেছিল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। তারপর সাকিব আল হাসান আক্রমণাত্মক ৮২ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে পথে রাখেন।

৬ উইকেটে ৩২২ রান নিয়ে গতকাল দিন শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই ফিরে আসেন আগের দিন মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ১০৭ বলে ১০টি চারে সাজানো ৫১ রান করে আউট হন। মিরাজ ফেরার পর মুশফিককে আর কেউ সে ভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি। তাইজুল ৩৮ বলে ১০ রান করে আউট হন। এরপর তাসকিন ফিরেন ৮ রানে।

সব শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রবিচন্দন অশ্বিনের শিকার হয়ে ফিরেন মুশফিক। ততক্ষণে নামের পাশে তার ১২৭ রানের ঝলমলে ইনিংস; ২৬২ বলের এই ইনিংসে তার ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা। এটা ছিল মুশফিকের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরির দিক থেকে মুশফিকের উপরে এখন শুধু মোহাম্মদ আশরাফুল (৬) ও তামিম ইকবাল (৮)। তবে অন্য সেঞ্চুরিয়ানের চেয়ে মুশফিকের বৈচিত্র্য বেশি। কারণ তার পাঁচ সেঞ্চুরি পাঁচটি ভিন্ন দেশে।

বাংলাদেশ ৩৮৮ রানে অলআউট হয়; ভারতের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২৯৯ রানে পিছিয়ে। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি বাংলাদেশকে ফলোঅন না করানোর সিদ্ধান্ত নেন। নিজেরা আবারো ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। পাল্টা তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসানও বল হাতে আক্রমণ করেন। তাসকিন তুলে নেন দুই ওপেনার মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুলের উইকেট। সাকিব ফেরান কোহলি ও রাহানেকে। পরে ৪ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।

৪৫৮ রান পেছনে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ মাত্র দলীয় ১১ রানে হারায় তামিম ইকবালের উইকেট। এরপর অবশ্য সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক আশা তৈরি করেছিলেন। ১ উইকেটে ৭১ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সৌম্য ৪২ ও মুমিনুল ২৭ রান করে পর পর ফেরায়  ৩ উইকেটে ৭৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশের স্কোর।

দিনের বাকি সময়টা অবশ্য আর কোনো ক্ষতি ছাড়া পার করে দিয়েছেন সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহ।

ইত্তেফাক/নূহু