আওয়ামী লীগ বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ দেশ, জাতি ও সরকারের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত ষড়যন্ত্র। এ প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাদের সবারই এখন জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। আর যাদের জন্য দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের ভাবমূর্তি বিদেশে ক্ষুন্ন হয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি কানাডার আদালতে এমন রায়ের তিন দিন পর গতকাল সোমবার দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের নায়ক হিসেবে অভিহিত করে হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি (ইউনুস) ই-মেইল চালাচালি করেছিলেন। আর এ ই-মেইলে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ যেভাবে এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন তাতে মনে হয় এ ষড়যন্ত্র ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফল। তিনি বলেন, টিআইবিও দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। টিআইবিসহ কিছু বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার আগেই দুর্নীতি হয়েছে প্রমাণে ব্যস্ত ছিল। তাদের এ তত্পরতার কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এতে প্রকল্পের কাজ দুই বছর পিছিয়েছে। দেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।
এই রায়ের পর বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, দুদক যখন বলেছিল, এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি, তখন তারা মানেনি। তারা বলেছিল সরকারের প্রভাবে দুদক এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কানাডার আদালতের রায়ের পরও তারা একই মনোভাব প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় ুবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
