উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪:৪৬
টাঙ্গাইল জেলার সবচেয়ে নিকটবর্তী উপজেলা দেলদুয়ার। এ উপজেলায় প্রায় তিন লাখ লোকের বাস। কিন্তু স্বাস্থ্য সেবার চিত্র ভয়াবহ। তিন লাখ লোকের জন্য তিনজন ডাক্তার থাকলেও মাঝে মাঝে ডাক্তার শূন্য থাকে দেলদুয়ার হাসপাতাল। ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তব চিত্র চোখে পড়ে।
 
৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নীত করা হয়েছে। তিন তলা বিশিষ্ট নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও পাঁচ তলা বিশিষ্ট ডরমেটরির নির্মাণ কাজ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়। উদ্বোধনের অপেক্ষায় এতদিন পড়ে ছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন। সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি ও কিছু আসবাবপত্র আসলেও প্রায় তিন বছর ধরে সেগুলো এলোমেলো পড়ে আছে। ডাক্তার নার্সসহ একজন স্টাফও নিয়োগ দেয়া হয়নি। যে কারণে উদ্বোধনের পরের দিন থেকেই আবারো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন। এদিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান মিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দুর্দশার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির নির্মাণ কাজ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ নিয়োগ দেয়নি। যে কারণে চালু করা যাচ্ছে না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম। এদিকে পুরোনো ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের পদ রয়েছে নয়টি। এদের মধ্যে একজন ডেপুটেশনে, তিনজন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ও একজন মাতৃকালীন ছুটিতে রয়েছেন। বাকি চারজনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একজন ডেন্টাল সার্জন ছাড়া বাকি মেডিকেল অফিসার দুইজন। তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিনজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও রয়েছে দুইজন। সেই দুইজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন মোট চারজন মেডিকেল অফিসার পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন একজন বা দুইজন মেডিকেল অফিসার রোগী দেখেন।’
 
ইত্তেফাক/সালেহ্