৬৫ বছর পর ভাষা শহীদ আবদুস সালামের কবর শনাক্ত করেছে তার পরিবার। রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে চার-পাঁচ দিন আগে এই কবর শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভাষা শহীদ সালামের ভাতিজা মকবুল আহাম্মদ আজিমপুর কবরস্থানের মেহরার কাছে কবর দেয়ার নকল কপিসহ লিখিত দাবি জমা দিয়েছেন। ঐ দাবিটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের(ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী কর্মকর্তা আনসারুজ্জামানের দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির সহকারী সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, কয়েকদিন আগে ভাষা শহীদ সালামের পরিবার আজিমপুর কবরস্থানে একটি কবর দেখিয়ে সেটিকে ভাষা শহীদের কবর বলে শনাক্তের দাবি তোলেন। তারা আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদকে কবর দেয়া সংক্রান্ত একটি নকল কপিও দেখান। সেটি ভাষা শহীদ সালামের কবর কি-না সেটি সিটি কর্পোরেশন চুড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিবে।
ভাষা শহীদ সালামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে। শনিবার তার ভাই বিজিবি’র অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আবদুল করিম জানান, ১৯৫২ সালে তার ভাই সালাম ভাষা আন্দোলন চলাকালীন সময় ঢাকার মিন্টো রোডে ডাইরেক্টর অব ইন্ডাস্ট্রিজ অফিসে রেকর্ড কিপারের কাজ করতেন। ভাতিজা মকবুল আহাম্মদ তেজগাঁওয়ে একটি কারখানায় লেবার সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। তারা উভয়ে নীলক্ষেত এলাকায় একটি ব্যাচেলর মেসে সিট ভাড়া করে থাকতেন। ভাষা আন্দোলন চলাকালীন সময় সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে সালাম ১০ জনের একটি দল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে তিনি পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মকবুল খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধারা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে দীর্ঘ দেড় মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে বাংলাভাষার জন্য শহীদ হন।
ভাষা শহীদ সালামের ভাতিজা মকবুল জানান, তিনি আজিমপুর গোরস্থানে একটি আমগাছের নিচে তার চাচা সালামকে দাফন করেন। আমগাছটি কেটে ফেললেও তিনি ৬৫ বছর পর একজন সাংবাদিকের সহায়তায় ৪/৫ দিন আগে কবরটি সনাক্ত করতে সক্ষম হন।
ভাষা শহীদ সালাম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামের খোদাজান ভূঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ফাজিল মিয়া পেশায় ছিলেন একজন কৃষক এবং মাতা দৌলতুন্নেছা। তাদের পরিবারে ৪ ভাই ও ২ বোন। সালামের পরিবার ছিল হতদরিদ্র। তিনি অনেক কষ্ট করে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার আগেই তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে কিছুদিন থেকে মেট্রিক পাশ করার পর দেশে চলে আসেন এবং চাকরিতে যোগদান করেন। সালামের বাড়ি লক্ষ্মণপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে শহীদ সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে সরকার নামকরণ করেছে সরকার।
ইত্তেফাক/মণ্ডল
