বই মেলায় সাহাদাত পারভেজের ‘গজারিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২২:৪৪
অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে শেকড় সন্ধানী লেখক ও খ্যাতিমান আলোকচিত্রী সাহাদাত পারভেজের গবেষণা গ্রন্থ ‘গজারিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’। ১৭ বছর ধরে তিনি নানা দলিল দস্তাবেজ সংগ্রহ করে বইটি লিখেছেন। 
 
২৯৬ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বরেণ্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। অলংকরণ করেছেন শিশির আহমেদ। বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে উৎস প্রকাশনীর ১৯৭-২০০ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। 
 
১১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
 
বইটির মুখবন্ধে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, এই গ্রন্থের লেখক ইতিহাসের ছাত্র নন। তবে নিজের শেকড় সন্ধান করতে গিয়েই তিনি হয়তো এই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন। তিনি মূলত নিজের এলাকাকে পাঠকের সামনে হাজির করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এটা করেছেন তার জন্মগত দায় থেকে। এই বই লিখতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পুরনো যা কিছু সংগ্রহ করেছেন, তা বিস্ময়কর। সবকিছুর বিচারে বইটিকে গজারিয়ার ইতিহাসের আকরগ্রন্থ বলা যায়। 
 
বইটির লেখক সাহাদাত পারভেজ বলেন, ‘বইটিকে ইতিহাসের বই বলা কঠিন। তবে এর মধ্যে ইতিহাস আছে, যে ইতিহাস জনজীবনে প্রতিফলিত। লেখক খুবই বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আমি ইতিহাসবিদ নই। ইতিহাস কেমন করে লিখতে হয়, তা-ও আমার জানা নেই। তবে লেখালেখি করা আমার স্বভাব। তাই গল্পের মতো করে লিখেছি। যখন যা খুঁজে পেয়েছি, সযত্মে সংরক্ষণ করেছি। গুছিয়ে রাখলে প্রয়োজনে সব খুঁজে পাওয়া যায়, এমনকি বিগত স্মৃতিও। সবকিছু বিবেচনায় বইটিকে গবেষণাগ্রন্থ বলা যায় কি না, সেটা পাঠকই নির্ধারণ করবেন।’ 
 
বইটির ভূমিকায় লেখা আছে, পৌরাণিক কাহিনী আর প্রাচীন সাহিত্যে মেঘনা নদী নয়, মেঘনা সাগর, প্রমত্তা ভীষণা। প্রাচীন মেঘনা তার সাগর খেতাব হারিয়ে এখন নি:স্ব নদী। আজ থেকে প্রায় চারশ বছর আগে মেঘনার বুকে জেগে ওঠে এক বিশাল দ্বীপ। এই দ্বীপের নাম রাখা হয় ভবচর। ভবসাগরে জেগে ওঠেছিল বলেই হয়ত এর এমন নাম। মেঘনা গহীন থেকে ভেসে ওঠা সেই দ্বীপটিই আজকের জনবহুল গজারিয়া। গজারিয়ার পত্তন মূলত সোনারগাঁও পতন পরবর্তী ঘটনা। স্পষ্ট করে বললে, রাজধানী হিসেবে ঢাকার বয়স যত, ভূখণ্ড হিসেবে গজারিয়ার বয়স তার সমসাময়িক বলে ধরে নেওয়া যায়।
 
বাংলাদেশের বুকে গজারিয়ার বর্তমান আয়তন ৫১ বর্গমাইল। মোগল আমলের মাঝামাঝি সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি নিভৃত দ্বীপ কেমন করে এক ব্যস্ত জনপদে পরিণত হলো তারই ধারাবাহিক বয়ান আছে এই বইয়ে। ব্রিটিশ আমলের শেষ সময় পর্যন্ত লোকে এই এলাকাকে চিনত ‘ফুলদী গজারিয়া’ হিসেবে। মোগল আমলেই এই ভূখণ্ডে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। ভূতাত্ত্বিক কারণেই সম্ভবত এর আগে এখানে বসতি স্থাপন সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরবর্তী সময়ে উর্বরা ভূমিই চারপাশের মানুষদের এখানে টেনে নিয়ে আসে। ফলে শুরু থেকেই গজারিয়া সাধারণ মানুষের আবাসভূমিতে পরিণত হয়। এই আবাসভূমিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আসেন কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তিও। নদীঘেরা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা আসেন মূলত পত্তনী লাভের কারণে। আবার কেউ কেউ আসেন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। সমকালীন সমাজের ক্ষমতাবান এই মানুষগুলো কোথা থেকে এলেন কিংবা কেমন করে এই ভূসম্পত্তির মালিক হলেন, তারই বিস্তৃত বর্ণনা আছে এই বইয়ে।
 
খ্যাতিমান আলোকচিত্রী, আলোকচিত্র সাংবাদিকতার শিক্ষক ও পরামর্শক সাহাদাত পারভেজের প্রথম বই ‘যে ছবি হৃদয়ে আঁকা’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে, কলেজে পড়ার সময়। লেখকের উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে- শেকড়ের খোঁজে, একটি বিদ্যালয় বৃত্তান্ত ও ফটো অ্যালবাম শতবর্ষের পথিক।
 
 
ইত্তেফাক/উজ্জল