মাত্র ৪ বছর বয়সে গুটি বসন্তে দুই চোখের দৃষ্টি হারান চাঁন সওদাগর। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব আমখাওয়া গ্রামের বাসিন্দা কোরআনের হাফেজ চাঁন সওদাগরকে কমবেশি সবাই চেনেন। একটি ব্রেইল মেশিনের অভাবে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
অবশেষে তার সহায়তায় এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চাঁন সওদাগরের হাতে একটি ব্রেইল মেশিন তুলে দেন জাকির হোসাইন।
স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় চাঁন সওদাগরের বাবা মুনছুর আলী পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে তার মা মারা যান। পিতা-মাতা হারিয়ে অন্ধ চাঁন সওদাগর অসহায় হয়ে পড়েন। হঠাৎ একদিন এক ইংরেজ নারী তার প্রতি সদয় হন। তাকে ঢাকায় নিয়ে একটি অন্ধ বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হন। এর পাশাপাশি তিনি অন্ধ বিদ্যালয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে পুস্তক লেখার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
পরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় একটি ব্রেইল মেশিন ক্রয় করেন। ওই ব্রেইল দিয়ে তিনি অন্ধদের জন্য কোরআন-হাদিস ও অন্যান্য পাঠ্য বই লিখে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার ব্রেইল মেশিনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে এবং তার আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। তার পরিবারের অসহায়ত্বের সংবাদ জানতে পেরে এগিয়ে এসেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
ইত্তেফাক/উজ্জল
