বেদখল যাত্রী ছাউনি উচ্ছেদে গড়িমসি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৭

রাজধানীতে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছাউনি থাকলেও বেশিরভাগ অবৈধ দখলে। তাই প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরীর বাসযাত্রীরা।

দেশের বেশিরভাগ মানুষ রাজধানীমুখী। প্রতিদিন রাজধানীতে আসছে মানুষ। বাড়ছে গণপরিবহন। তবু প্রয়োজনের তুলনায় গণপরিবহন খুব কম। বাসের জন্য অপেক্ষা তাই নিত্যদিনের ঘটনা। তবে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি।

উত্তর সিটির এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, রাজধানীতে তাদের সীমানা এলাকায় যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১২৯টি। এর মধ্যে ৯৬টি সিটি করপোরেশনের। এসবের মধ্যে ১৮টি ছাউনি উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও অন্যান্য সংস্থার অনুমোদিত যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১৫টি। এ সব যাত্রী ছাউনির মধ্যে ব্যবহারের জন্য ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে চুক্তি নবায়ন হয়েছে ৬১টির। আর সংস্কারযোগ্য যাত্রী ছাউনি রয়েছে ১০টি। এছাড়া উচ্ছেদযোগ্য ১৩টি যাত্রী ছাউনি রয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি এলাকায় ৮৬টি যাত্রী ছাউনি ছিল। এর মধ্যে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানিকে ৫৭টি  যাত্রী ছাউনি ইজারা দেওয়া হয়। তারা ৩২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে। এছাড়া অন্য বেসরকারি কোম্পানি আরো ২৯টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে। মোট ৬১টি যাত্রী ছাউনি ২০০৭ সালে চুক্তির মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ২০১২ সালে শেষ হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ যাত্রীদের সুবিধার্থে গত আশির দশকে এ সব যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হলেও এ সব ছাউনিতে তেমন একটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে বেশিরভাগ যাত্রী ছাউনির বেহাল দশা। সেসব স্থানে নানা প্রকার পণ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে।

আবার কোনো ছাউনির পুরোটাই দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এদের উচ্ছেদে নীরবতা পালন করে যাচ্ছে।

ভাঙাচোরা লোহা, পুরনো মরচে পড়া স্টিল আর মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্টের তৈরি এ সব ছাউনি দেখলে কেউ আর এর নিচে বিশ্রামের জন্য দাঁড়াতে চান না। কিছু ছাউনি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।

উচ্ছেদের যোগ্য হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছু যাত্রী ছাউনি। বর্ষায় বৃষ্টি আর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদ থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে ও বাস থামার নির্দিষ্ট স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এ সব যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তা যাত্রীদের কোনো কাজে আসছে না।

উপরন্তু এসব যাত্রী ছাউনি অনর্থক ফুটপাতের ওপরের জায়গা দখল করে গড়ে তোলায় নাগরিকদের চলাচলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ছাউনির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের গোচরে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এ সব উচ্ছেদযোগ্য ছাউনিগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।

দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন দেখা গেছে, আবদুল্লাহপুর যাওয়ার পথে বিমান বন্দর বাস স্টপেজের সামনের ছাউনি, শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দুটি ছাউনিতেই বসার জায়গা নেই। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের উল্টো দিকের যাত্রী ছাউনি ঝুঁকিপূর্ণ। গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে বাস স্টপেজের সামনের যাত্রী ছাউনির পুরোটাই হকারদের দখলে। প্যান্ট, শার্টসহ রয়েছে রকমারি বেল্টের দোকান। যাত্রী বসার ব্যবস্থা তো দূরের কথা, দোকানিদের জায়গা দখলের কারণে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের যাত্রী ছাউনিতে ভাজাপোড়া তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। কাকরাইল মোড়ের দিকে যাওয়ার পথে শান্তিনগরের যাত্রী ছাউনির অবস্থাও নাজুক। মূলত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের যাত্রী ছাউনির চিত্র একই রকমই।

এছাড়া ফার্মগেট থেকে শাহবাগে যেতে শাহবাগ মোড়ে যাত্রী ছাউনি থাকলেও বাংলামোটরের কোনো স্থানেই কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। অথছ নিয়মিত সব বাস থামানো হয় সেখানে। কাওরান বাজার ও ফার্মগেটের মাঝামাঝি একটি ছাউনি থাকলেও সেখানে বাস থামে না কখনই। ফলে যাত্রীদের কোনো উপকারেই আসছে না এটি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ছাউনিগুলো দীর্ঘদিন আগে তৈরি করায় বেশ কিছু যাত্রী ছাউনি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। এসব যাত্রী ছাউনি যাত্রীদের তেমন কোনো কাজে আসছে না। আগামীতে ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে জরিপ করে যেসব স্থানে নতুন জায়গায় ছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন সেসব স্থানে নতুন করে যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হবে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের মাধ্যমে একদিকে যেমন উপকৃত হবেন নগরবাসী, তেমনি যাত্রী ছাউনি কেন্দ্রিক বাস স্টপেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে যেখানে-সেখানে গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হবে।

ইত্তেফাক/নূহু