ভারতের মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে উপ-হাইকমিশনার কর্তৃক জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনা এবং ভাষা দিবসের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
মুম্বাই-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার সামিনা নাজ প্রত্যূষে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন। উপ-হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং স্থানীয় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পতাকা উত্তোলন সমাপনান্তে বাণী পাঠ শেষে ভাষা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি করা হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দ্বি-প্রহরে উপ-হাইকমিশন কর্তৃক চ্যান্সারী ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্র সরকারের রাষ্ট্রাচার প্রধান এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিব জনাব সুমিত মল্লিক এ অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত থাকেন। উল্লেখ্য, জনাব মল্লিক একজন বাঙ্গালী। মুম্বাই-এ বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাউথ আফ্রিকা-এর কনসাল জেনারেলসহ মুম্বাইয়ে অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিগণ, মহারাষ্ট্র সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ এবং উপ-হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সপরিবারে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপ-হাইকমিশনার সামিনা নাজ আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আমাদের মহান ভাষা সংগ্রামে যে সকল শহীদ সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁদের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন মাতৃভাষার জন্য আমাদের যে আত্মত্যাগ তা বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য নজিরই স্থাপন করেনি বরং তা ছিল বাঙ্গালী জাতির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা সমুন্নত রাখার এক অসাধারণ প্রয়াস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রেক্ষাপটও তিনি তাঁর বক্তব্যে অবহিত করেন।
গেস্ট অফ অনার-এর বক্তব্যে জনাব সুমিত মল্লিক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন এ দিনটি শুধুমাত্র যে বাঙ্গালী জাতির জন্য গর্বের তা নয় বরং দিনটি বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে তাঁদের নিজ নিজ ভাষা এবং সংস্কৃতির চর্চা ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। বক্তব্য শেষে বাংলাদেশের উপর নির্মিত ‘বাংলাদেশ: অ্যা গোল্ডেন টুমরো’ ও ভাষার উপর নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পরিশেষে ”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১ ফেব্রুয়ারি” সংগীত পরিবেশন করা হয়। সভা শেষে সকলকে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
ইত্তেফাক/সাব্বির
