একুশের চেতনায় দেশ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০১:১৬

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ, সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর, সব ধরনের ইতিহাস ও ভাষা বিকৃতি বন্ধ, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং মহান স্বাধীনতা ও একুশের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি গতকাল মঙ্গলবার পালন করলো শোক, অহঙ্কার আর গর্বের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের ঢল নামে। সবার হাতে ফুলের স্তবক, পোশাকে শোকের কালো চিহ্ন, শ্রদ্ধায় নাঙ্গা পায়ে প্রতিটি পদক্ষেপে ভাষার অহঙ্কার, আর কণ্ঠে একুশের অমর সেই বিষাদমাখা চিরচেনা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/    আমি কি ভুলিতে পারি...।’

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের স্মরণে নতুন শপথের গান শোনা গেছে এবার। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারাদেশের প্রতিটি শহীদ মিনারে কালো ব্যাজ ধারণ করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল ইতিহাস বিকৃতকারী ও দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার শপথ।

গর্ব আর শোকের এই দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছে জাতি, যার সূচনা হয় একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে রাজধানীর অলিগলি-পাড়া-মহল্লায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনার ছাড়াও শহর গ্রাম-পাড়া-মহল্লা এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে একটু ভিন্ন আঙ্গিকেই এবার পালন করা হলো মহান শহীদ দিবস। প্রবাসীরাও বিদেশের মাটিতে শহীদ মিনার গড়ে শ্রদ্ধা জানান ভাষার জন্য শহীদদের। বাঙালি অমর একুশের এই দিনটিকে সমৃদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নানা আয়োজনেও। একুশের প্রথম প্রহর থেকে শুরু করে পরদিন বিকাল পর্যন্ত অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যায় শহীদ মিনারের বেদী। যে ভাষার বুকের কাছে মগ্ন আছে বাঙালির অঙ্গীকার, সেই ভাষার দিনে বেদনা আর গর্ব নিয়ে সব পথ যেন এক হয়েছে শহীদ মিনারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

এবারও শহীদ মিনারের জনস্রোত ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা শহরে। শাহবাগ, টিএসসি, পলাশী, দোয়েল চত্বর এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য।

শহীদ মিনারের বেদীতে ঘোরাঘুরি করছেন বিদেশি এক নাগরিক। পরনে কালো পোশাক। স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ ফেলে ঘিরে ধরেছে তাকে। সবার আবদার মেটাতে একের পর এক সেলফি তুলছেন। এমনভাবে মিশছেন যেন কত দিনের পরিচিত সবাই। কাছাকাছি যেতেই শোনা গেল, পরিষ্কার বাংলায় স্কাউটের এক ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, কি রে হিরু, ভালো করে ফুল সাজাও! বিদেশি কোনো নাগরিকের মুখে স্পষ্ট বাংলা শুনে উপস্থিত সবাই তো অবাক। পরে জানা গেল, এই বিদেশির নাম ফাদার জিওয়া। তিনি ইতালিয়ার নাগরিক।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে মাঝে মাঝে কিছু বাধা আসে। আমরা এ বাধা মোকাবেলা করার প্রেরণা পাই একুশ থেকে। সেই দিন আমাদের ভাষা শহীদরা যার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের সেই ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করতে হবে। শুদ্ধ করে বাংলা ভাষাকে শিখতে হবে। সবার আগে মাতৃভাষা তারপর বিদেশি ভাষা।

গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দেন। তারপর ফুল দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ প্রধান, কূটনীতিকদের পর ফুল দেয় ক্ষমতাসীন ১৪ দল। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, অ?্যাটর্নি জেনারেলও ফুল দেন প্রথম প্রহরে।

হুইল চেয়ারে বসে একদল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভাষাশহীদদের। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফুল দেন শহীদ বেদীতে। কড়া নিরাপত্তার মধ?্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্স, জাসদ ছাত্রলীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

রাত ১টা ২৭ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মিছিল কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে তাকে ফুল দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে পুষ্পাঞ্জলি রেখে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন, সেখানে উঠে হুড়োহুড়ি করে মূল বেদীতে উঠে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার দলের অন্য নেতারা। তাদের বাধা দিয়ে থামাতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্বরত রোভার স্কাউটসের সদস্যরা। হুড়োহুড়ির এ ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসময় ধাক্কাধাক্কিতে বিএনপির কয়েকজনকে শ্রদ্ধার ফুলও পদদলিত করতে দেখা যায়। কালো ব্যাজ বুকে নিয়ে খালেদা জিয়া তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস?্যরা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বেলা সাড়ে এগারটায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নের্তৃত্বে কমিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা করেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনেই বিষয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মধ্যরাত থেকে গতকাল দিনভর শহীদদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন পাশপাশি কবিতা পাঠের আসর, আলোচনা সভা,আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সুন্দর হস্তাক্ষর ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের প্রতি শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া, মুনাজাত এবং প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে মঙ্গলবার মধ্য রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে এবং সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জেপি’র শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ হতে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম.সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল জেপি’র সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে দলের নেতা ও কর্মীরা আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদের কবরে  ফাতেহা পাঠ এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কমনা করে মোনাজাত করা হয়। এসময় শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতি এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিরা একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মুনাজাত

ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদের রুহের শান্তি কামনা করে গতকাল সকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মুনাজাতের আগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়।

পাড়ায় পাড়ায় শিশুদের শহীদ মিনার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারই নয়, রাজধানীর পাড়ায় পাড়ায় শহীদদের স্মরণে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শহীদ মিনার। এসব শহীদ মিনারের বেশির ভাগ বানিয়েছে শিশুরা। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে বানানো অস্থায়ী শহীদ মিনারগুলোকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেকৃবিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ইত্তেফাক/নূহু