শিক্ষার মানহীনতা পুরো সমাজকেই শিক্ষাহীন করে তুলেছে : অধ্যাপক হায়াত্ মাহমুদ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৫:১৩

মেলায় এসেছিলেন অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ। একুশে বইমেলা ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। সারাদেশের পাঠকরা এ মেলার দিকে তাকিয়ে থাকে। এক মাস ধরে মেলা হয়, অনেক মানুষ আসে। তবে আজকের এই বইমেলার জন্য সবারই চিত্তরঞ্জন সাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের সাহিত্যের অনেক অর্জন রয়েছে। তবে এখনকার লেখকদের রচনার মান নেমেছে, গবেষণার মান নেমেছে। পরিশ্রম ছাড়া কিছুই হয় না। আমরা কেউই পড়াশোনা করতে চাইছি না। কম পরিশ্রমে বেশি উপার্জনের মানসিকতা পেয়ে বসেছে। এ সবের মাতৃভাষা নিয়ে ভাববার সময় কই। মাতৃভাষা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের সাধারণ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ খারাপ, বাইরে গেলেই স্বর্গ। এরপরে বাংলা ভাষা নিয়ে চিন্তা-দুশ্চিন্তা কেউ করতে রাজি নয়।

হায়াত্ মামুদ বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের মান খুব খারাপ। নানা বিবেচনায় তারা শিক্ষক হচ্ছেন। কোথাও কোনো চাকরি না পেয়ে গ্রামের কলেজে শিক্ষক হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এ সব বাজে মানের শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন। ফলে তাদের হাত দিয়ে যেসব শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছে তারা নিম্নমানের শিক্ষা নিয়েই বড় হচ্ছেন। শিক্ষার মানহীনতা পুরো সমাজকেই শিক্ষাহীন করে তুলছে। তা ছাড়া সমাজেও লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থী লেখাপড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস না, চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস। তাই পড়াশোনা চাকরি পাওয়া কেন্দ্রিক। পরিবারের মা-বাবারাও সন্তানদের সময় দিচ্ছেন না। সংসার চালাতে অনেকেই দুটি করে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ অবস্থা চলা উচিত নয়। এ অবস্থা পরিবর্তনে ঘরে বাইরে সবদিক থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আর সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরতে হবে। না হলে জাতির ক্ষতি হবে, হচ্ছে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ইত্তেফাক/নূহু