‘একুশে পদক আমাকে সারাদেশের কাছে ঋণী করেছে’

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১২:২১
 
এদেশের বিশিষ্ট নাট্যজন সারা যাকের। দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ই আরাধ্য ছিল এই গুণী মানুষটির। অভিনয় ছাড়াও তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থা, এফএম স্টেশনসহ নারী উদ্যোক্তা হিসেবেও এদেশের অনন্য একটি নাম। এ বছর তার কাজের মূল্যায়নেই পেলেন একুশে পদক। এই সম্মাননা পাওয়া, মঞ্চ ও টিভি নাটকের বর্তমান অবস্থাসহ সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
 
একুশে পদক-অনন্য এই সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আপনার অনুভূতি জানতে চাই—
 
এটি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের, সাথে সম্মানেরও। পুরস্কার, সম্মাননা  দায়িত্ববোধকে আরো বাড়িয়ে দেয়। একুশে পদক প্রাপ্তি আমাকে সারাদেশের কাছে ঋণী করেছে। মনে হচ্ছে এই পদক যথার্থ হবে যদি আমি আরো কিছু কাজ করে যেতে পারি। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ আমি আমার পরিবারের কাছে। যারা আমাকে অনুপ্রেরণা না দিলে, আমার পাশে না থাকলে যা হয়তো সম্ভব হতো না।
 
দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চনাটকের সাথে জড়িত আছেন। এই অঙ্গনের অনেকগুলো পর্যায় আপনি দেখেছেন। এখন মঞ্চনাটকের অবস্থা আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?
 
আমরা যে ঘরানার নাটক করতাম তার চাহিদা বর্তমানে নেই। যুগের সাথে সাথে মানুষের চাহিদায় ভিন্নতা আসে। বর্তমানে নাটক তৈরির প্রেক্ষাপট ও নাট্য চিন্তায় ভিন্নতা আনতে হবে। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও মঞ্চনাটকে পেশাদারিত্ব আনতে আমরা ব্যর্থ। প্রায়ই ভালো নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে, কিন্তু সেগুলো তো আমাদের মঞ্চের দর্শক দেখতে আসেন না। মঞ্চ একটা সময় দর্শক হারাবে সেটা ভেবেছি, কিন্তু এতটা হারাবে সেটা ভাবিনি।
 
মঞ্চনাটকের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ হারানোর কারণ কি মনে করেন?
 
দর্শকদের কাছে বিনোদনের অনেক মাধ্যম এসেছে। তাছাড়া আমাদের মঞ্চ আসলে শিল্পকলা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। মহিলা সমিতিতে এখন নাটকের মঞ্চায়ন হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এই স্থানটিও আসলে মঞ্চের দর্শক টানতে পারছে না। আমাদের মঞ্চনাটকের প্রসার ঘটাতে হবে, দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করার জন্য নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু আমাদের সেই সময়টা কই! নাটকের নিয়মিত চর্চা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কেউ না কেউ প্রতিদিন আমাদের যানজটের শিকার। এজন্য মঞ্চনাটকের স্থানগুলোর প্রসার ঘটানো খুব বেশি দরকার।
 
তাহলে ভবিষ্যতেও কি মঞ্চনাটক কোনো ইতিবাচক মোড় নেবে না?
 
ভবিষ্যতে এর আশা খুবই ক্ষীণ। আমরা যারা মঞ্চের সঙ্গে জড়িত তাদের এখন একটাই ভাবনা কিভাবে মঞ্চের সুদিন ফেরানো যায়। আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশে মঞ্চনাটক আরো উন্নত হবে, আরো বেগবান হবে এবং আরো অর্থবহ হবে। আমাদের তরুণ নাট্যজনদের মধ্যে সেই লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যায়। আশার কথা হলো, এখনকার তরুণের সম্পৃক্ততা বাড়ছে নাট্যাঙ্গনে। তাদের কাজগুলোও চোখে পড়ছে বেশ। কিন্তু তারপরও আমার মনে হয় কোথায় কিসের যেন এক শূন্যতা রয়েছে। 
 
টিভি নাটকের অবস্থা নিয়ে বলুন—
 
টিভি নাটকের অবস্থা যে খুব ভালো তা বলবো না। গল্পের দুর্বলতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই জায়গাটা ঠিক করা সবার আগে প্রয়োজন।
 
নাটক-চলচ্চিত্র প্রযোজনা, প্রচার-প্রচারণা ছাড়া বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা আসলে কেমন হওয়া উচিত?
 
বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর নিজেদের যত পরিকল্পনাই থাকুক সেটার তো আগে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। চ্যানেল বলুন, পরিচালক বলুন, প্রযোজনা বলুন সবার একটা চাহিদা থাকে। সেই চাহিদা থেকে অনেক কাজ উঠে আসছে। এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর কিছু করার থাকে না। তবে কাজের সাথে সম্পৃক্ত সবার চাহিদা এক হলে, ধ্যান-ধারণা মিলে গেলে তবেই একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা নিজেদের পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারে। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর