‘দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি নয়, নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ২১:২২

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, ‘দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করে নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, আর্ত-পীড়িতদের পাশে দাঁড়ান। এবং নির্মাণবিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হোন। যিনি নির্মাণবিধিমালা মানবেন না, তিনি নিজেই বিপদে পড়বেন’। 

রবিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে মন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সারাহ বেগম কবরী’র সভাপতিত্বে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আখতার হোসেন, চিত্রনায়িকা নূতন, কণ্ঠশিল্পী এসডি রুবেল প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

‘ঢিল ওপরে ছুড়লে নিজের গায়ে এসে পড়ে’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, সরকারের অবহেলায় বনানী’র টাওয়ারে আগুন লেগেছে। এখন দেখা যাচ্ছে ১৮ তলার অনুমতি নিয়ে এফ আর টাওয়ারের অনুমোদনবিহীন ২৩ তলার অতিরিক্ত ৫ তলার মালিক বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম। সে অপরাধে তিনি ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তার সহযোগীদের খোঁজা হচ্ছে’।

‘সরকার সমরাস্ত্র কেনে কিন্তু অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র কেনে না-বিএনপি’র এ অমূলক অভিযোগের জবাবে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই-আমরা কি সমরাস্ত্র কেনা বন্ধ করে দেব? তারা কি জানে না, সেনা সদস্যদের পাশাপাশি শান্তিরক্ষায় ব্যবহৃত সমরাস্ত্রের জন্যেও জাতিসংঘ থেকে দেশ অর্থ উপার্জন করে!’ বলেন মন্ত্রী। সেই সাথে তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, ‘২০০৮ সালের ২০৮টি ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বেড়ে এখন ৪০২টি হয়েছে, ৪ হাজার অগ্নি নির্বাপক জনবল বেড়ে প্রায় ১১ হাজার হয়েছে, কেনা হয়েছে ৪৯ পদের নতুন সরঞ্জামাদি, গত ১০ বছরে দেশের অগ্নি নির্বাপন সক্ষমতা বেড়েছে আড়াই গুণ’।  

আরও পড়ুন: তাসভির ও ফারুক সাতদিনের রিমান্ডে

বক্তৃতার শুরুতেই ড. হাছান মাহমুদ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু’র জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি অর্জন করেছে স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কয়েক দশক আগেই বাংলাদেশ মালয়েশিয়া অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার সমান সমৃদ্ধি অর্জন করতো’।

‘বঙ্গবন্ধু যখন দেশের দায়িত্ব নেন তখন দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ শূন্য, ৩ কোটি মানুষ গৃহহারা, ১ কোটি মানুষ শরণার্থী, চারিদিকে লক্ষ লক্ষ শহীদ পরিবারের আহাজারি, আমাদের স্বাধীনতা চায়নি এমন বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ষড়যন্ত্র-এ সবের মুখে বঙ্গবন্ধু দেশ পুনর্গঠন করেছেন’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেশ পরিচালনার সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭.৪ শতাংশ, যা আমরা মাত্র ২ বছর আগে আবার অর্জন করতে পেরেছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রথম ৫টি দেশের একটি। আমাদের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে, ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে’।

ইত্তেফাক/এমআই