দীঘদিন ধরে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় কারাগারে আটক ১০ বন্দীকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়েছে। এদের মধ্যে চার বন্দীকে ডান্ডাবেরি পরিহিত অবস্থায় আদালতে হাজির করায় ডিআইজি প্রিজনকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৯ মার্চ আদালতে হাজির হয়ে তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১০ বন্দীকে আদালতে হাজিরের পাশাপাশি মামলার নথি তলব করে। এছাড়া তাদের কেন জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা সাবিনা আহমদ মলি এই বন্দীদের দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকার বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করলে আদালত তাদেরকে হাজিরার নির্দেশ দেয়।
ওই নির্দেশ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট আসামিদেরকে আজ হাইকোর্টে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে বন্দী মো. হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, নাসিরউদ্দিন ও গিয়াসউদ্দিনকে ডান্ডাবেরি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। তখন হাইকোর্ট বলেন, কেন তাদেরকে ডান্ডাবেরি পড়ানো হয়েছে? এরা কি দণ্ডপ্রাপ্ত? এগুলো খুলে দেয়া হোক। এ পর্যায়ে বন্দীদের সঙ্গে আসা এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ চারজনকে ডান্ডাবেরি পরিয়েছে। চাবিও তাদের কাছে রয়েছে। ফলে এখন খুলে দেয়া যাচ্ছে না। এরপরই হাইকোর্ট ডিআইজি প্রিজনের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে তলবের আদেশ দেয়।
এদিকে আজ ১০ বন্দীর মধ্যে সিলেট কারাগারে আটক বন্দী ফারুক হোসেনের মামলার নথি হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। বাকিদেরগুলো না আসায় পুনরায় নথি তলব করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ফারুকের মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির পাশাপাশি তার জামিন আবেদন বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ফারুক ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাকে ১৩১ বার নিন্ম আদালতে হাজির করা হয়েছে। সাক্ষী হয়েছে ৬টি। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি হয়নি।
এছাড়া বৃহস্পতিবার আদালতে বাকি নয় বন্দি রফিকুল ইসলাম রাজু, হায়দার আলী, সেলিম মিয়া, রাজু জগন্নাথ, বসির উদ্দীন, মো. হাবিবুর রহমান, মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, নাসিরউদ্দীন ও গিয়াসউদ্দীনকে হাজির করা হয়। হাজিরার পর আদালত তাদের মামলা সম্পর্কিত তথ্য জানতে চান। জিজ্ঞাসার জবাবে বন্দীরা বলেন, তাদের কেউ কেউ দেড় যুগ এবং অনেকেই এক যুগ ধরে কারাগারে আছেন। সাক্ষী অনুপস্থিত ও আইনজীবী না থাকায় তাদের মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। এ সময় আইনজীবী সাবিনা আহমদ মলি উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/মণ্ডল
