ছুটির দিনে সেই একই লাইন ধরে মেলায় প্রবেশ, ঘুরে ঘুরে প্রিয় লেখকের বই ক্রয়, মেলার চারপাশে এমন দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বাঙালির বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ যারা করেন- বইমেলায় এলে সে কথা কেউ বিশ্বাস করবেন না। ছুটির দিনে মেলায় উপচে পড়া ভিড় হয় এটা সবার জানা। তবে শেষ শুক্রবারে ঢলের মত আসা মানুষের সঙ্গে একই তালে বেড়েছে বইয়ের বিক্রি। সেইসঙ্গে বইমেলার সবুজ চত্বরে ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’র দিন ফুরিয়ে আসছে। মেলার বাকি আছে আর মাত্র চার দিন।
পাঠকের ভিড়ে, স্টলে স্টলে বই কেনাবেচায় সরগরম মেলা। মা-বাবা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে কিনেছেন বই। কেউ কেউ ছবি তুলছেন মেলায় আসা প্রিয় লেখকের সঙ্গে, নিচ্ছেন অটোগ্রাফ। ছবি তুলছেন ভাষা শহীদদের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে। বন্ধুদের নিয়ে সারাদিন ধরে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে আড্ডা দিয়ে কাটালেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মেলাকে এখন আর ছুটির দিন বলে আলাদা করা যাচ্ছে না। পাঠক মেলায় আসছেন বই কিনতেই। সব স্টলেই এখনো আসছে। বিক্রিও হচ্ছে। যারা ভালো বই প্রকাশ করেন তাদের তো দীর্ঘদিনের একটা পরিচিতি রয়েছেই। নতুন প্রকাশকরাও শেষবেলায় এসে বলছেন বিক্রি ভালো হচ্ছে। শেষ সময়ে এসে পাঠকরা আর ঘুরে বেরিয়ে সময় নষ্ট করেন না, নির্দিষ্ট প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে পছন্দের বই কিনছেন তারা।
ছুটির দিনে দেশের নানা প্রান্ত থেকেও পাঠকদের আসার কমতি ছিল না। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রূপসা থেকে এসেছেন স্থানীয় ফ্রেন্ডস ক্লাব-এর একদল তরুণ এসেছেন ক্লাবটির সভাপতি পারভেজ মোশাররফ তন্ময়ের সঙ্গে। আরো ছিলেন ক্লাবের সদস্য মাহবুব, সাজ্জাদ, আল-আমিন, রাসেল, আল-মমিন, সাগর বাদশা, রিয়াজ আহমেদ, অন্তু, মহিউদ্দিন প্রমুখ। তন্ময় বলেন, প্রতিবারই একুশের মেলা থেকে বই কিনে নিয়ে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে সেগুলো সরবরাহ করি। এবারও তাই করবো।
কবরীর ‘স্মৃতিটুকু থাক’
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত তিনি। তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তীতুল্য নায়িকা। তিনি কবরী। এই চিরসবুজ চিত্রনায়িকার ‘স্মৃতিটুকু থাক’ শিরোনামে আত্মজৈবনিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে বইমেলায়। বইটি প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল)। আজ শনিবার বিকেলে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন কবরী নিজেই, সে সঙ্গে থাকবেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। বইটির ভূমিকা লিখেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বইটিতে কবরী অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর পোস্টারের পাশাপাশি তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
শিশু-কিশোর সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অতিথি ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার। বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সালাহউদ্দীন আহমেদ ও কিরণচন্দ্র রায়। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিযোগিতায় ‘ক’ শাখায় প্রথম হয়েছে মাহির আবিদ অক্ষ, দ্বিতীয় হয়েছে সিনাতা আহেমদ রিসা এবং তৃতীয় হয়েছে দিবা রানী দেব অর্পা। ‘খ’ শাখায় প্রথম হয়েছে অনামিকা সরকার সোমা, দ্বিতীয় হয়েছে মাশুক কায়সার ইভান এবং তৃতীয় হয়েছে তানিশা জাহান নরিকা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশু-কিশোর সঙ্গীত প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক রহিমা আখতার কল্পনা।
মূলমঞ্চে আলোচনা
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ব্যারিস্টার আবদুল রসুল : জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মামুন সিদ্দিকী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তাবেদার রসুল বকুল এবং সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ভুঁইয়া।
সন্ধ্যায় ছিল অধ্যাপক লিয়াকত আলীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র, শাহ্ সাদিয়া আফরিন মল্লিকের পরিচালনায় হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমী এবং ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
আজ শনিবার মেলা চলবে সকাল এগারটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। আর সকাল এগারটা থেকে শিশুপ্রহর চলবে বেলা একটা পর্যন্ত।
