ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রকৃত অর্থেই আগামী প্রজন্মের জন্য সেরা উপহার: ড. আতিউর

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩২

‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সম্ভবত বর্তমান প্রজন্মের পক্ষ থেকে আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া সেরা উপহার’- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। 

আজ রবিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-তে আয়োজিত ‘ভিশন ২০৪১ অ্যান্ড বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের সদস্যরা, সচিব, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে অভিযাত্রা চলমান আছে তা তুলে ধরে ড. আতিউর বলেন যে, ‘বাংলাদেশ গতানুগতিক উন্নয়ন ভাবনার বাইরে গিয়ে প্রকৃত অর্থেই এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দেখিয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক রূপান্তর অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে বলেই বাংলাদেশ এখন বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট বাজারকে কাজে লাগানো এবং সর্বোপরি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকবিলা করার কথা ভাবতে পারছে।’ 

পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় সরকার যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও কর্মসূচি যুক্ত করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করেন ড. আতিউর। তার মতে, এই পরিকল্পনা যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় তবে তা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষয়-ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে আনবে এবং পুরো জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়বে।

এছাড়াও ড. আতিউর ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। তার মতে, এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলো হলো- বিশাল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, সুশাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতা, বাস্তবায়নকরী কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে যথায়থ সমন্বয় বিধান এবং এই পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক যুক্ততা নিশ্চিত করা। 

আরও পড়ুন: বেঙ্গালুরুর সামনে হায়দ্রাবাদের ২৩২ রানের বিশাল টার্গেট

তিনি আরও বলেন, ‘কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সরকারকে একটি কার্যকর ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কারণ ডিজিটাল সংস্কৃতি- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভাবতে ও কাজ করতে উৎসাহিত করে, দায়িত্বের সুষম বণ্টনে সহায়ক হয়, সাহসী পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে, বেশি বেশি কাজ করাকে প্রাধান্য দেয় এবং সর্বোপরি সকলে মিলে কাজ করাকে গুরুত্ব দেয়।’ যেহেতু প্যারিস জলবায়ু চুক্তি পরবর্তী পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব আজ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য গ্রহ রেখে যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে, তাই মানবিক দিকগুলো বিবেচনায় রেখে আমাদের পরিকল্পনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে ড. আতিউর তার বক্তব্য শেষ করেন।

ইত্তেফাক/কেকে