পাসপোর্ট অধিদফতরের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত আজিজুল ইসলাম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৫
 
বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের ২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন উত্তরা পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলাম। শনিবার এ পুরস্কার হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
 
বিসিএসের নন-ক্যাডার হিসেবে যোগদানের পর থেকে নিজের কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন আজিজুল ইসলাম। উত্তরা পাসপোর্ট কার্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে গোপালগঞ্জ, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আগের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ডাইনামিক কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন আজিজুল ইসলাম।
 
তিনি বলেন, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই প্রতিটি মানুষকে হাসি মুখে সুন্দর এবং ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই সুযোগ করে দিয়েছেন বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান। এ ছাড়া বর্তমানে সরকারের প্রতিটি দফতরে উন্নত এবং ভালো সেবা প্রদানের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।
 
আজিজুল ইসলাম বলেন, একটা সময় পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির অভিযোগ অনেক বেশি ছিল। ছোট-খাট বিভিন্ন সমস্যার জন্য গ্রাহকদের বার বার পাসপোর্ট অফিসে আসতে হতো। একটি পাসপোর্ট করার জন্য কখনও কখনও একই ব্যক্তিকে ৩-৪ দিন বা তারও বেশি বার পাসপোর্ট অফিসে আসতেন। এতে তাদের কর্মক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হতো। কর্মজীবনের শুরুতেই এ ধরনের হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
 
উত্তরা পাসপোর্ট কার্যালয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জরুরি সেবা দিতে এবং প্রবাসীদের যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে আমার কার্যালয়ের প্রতিটি কর্মী অনেক আন্তরিক। মানসিকভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে জনগণকে প্রাপ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি। নিজেদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে আমি তাদের সব সময় সচেতন করি। বর্তমানে আমার কার্যালয়ের প্রতিটি কর্মীই তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং আন্তরিক।
 
পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অধিদফতরের প্রত্যেক কর্মীকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার পরই উত্তরার পাসপোর্ট কার্যালয়কে দালালমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ কাজ করতে তাদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি কখনও কখনও আমাকে কঠোর হতে হয়েছে।
 
আজিজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ফরম পূরণে যথাযথ সাহায্য করার কারণেও দালালরা উত্তরা অফিস থেকে বিমুখ হয়েছে। বর্তমানে আমি এবং আমার সহকর্মীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় গ্রাহকদের ছোট-খাট সমস্যাগুলোর সমাধান করি। এতে তারাও দালালদের কাছে গিয়ে বেশি টাকা ব্যয় করে পাসপোর্ট বানানো এবং সব ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
 
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন আজিজুল ইসলাম। তার বাড়ি ফরিদপুরে। ৩১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে পাসপোর্ট অধিদফতরে যোগদান করেন তিনি।
 
ইত্তেফাক/রাফাত