বয়সটা ৩২ পার হয়ে গেছে। আর কয়দিনই বা খেলতে পারবেন। ২০১৪ সালে দুবাইতে পাকিস্তানের বিপক্ষে হয় টেস্ট অভিষেক। অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেও নজর কাড়তে পারেন নি তিনি। এরপর দুই বছর পার হলেও খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র চারটি টেস্ট। চার টেস্টে পেয়েছেন মাত্র ১৪ টি উইকেট।
তাই ভারত সফরের প্রথম টেস্টে হয়ে উঠেছিল স্টিভ ও’কিফের টেস্ট ক্যারিয়ার বাঁচানোরই লড়াই। কেননা এর আগে চারটি সিরিজে অসিদের হয়ে প্রতিটি সিরিজে মাত্র একটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন। যার দুটি ছিল ম্যাচ পেস ও বাউন্স বান্ধব সিডনীতে, অন্য দুটি ছিল পাল্লেকেলে ও দুবাইতে। তাই নজর কাড়তে না পারায় হয়ত পুনে টেস্টই ছিল ও’কিফের শেষ সুযাগ।
স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য পুণের পিচে ও’কিফের জন্য তাই পারফর্ম করার পরোক্ষ চাপ ছিল। নিজেকে প্রমাণের এই শেষ সুযোগ কি সুন্দর করেই না তিনি কাজে লাগালেন। দুই ইনিংসে মাত্র ৭০ রান দিয়ে ১২ উইকেট তুলে নিয়ে একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। ভারতের প্রথম ইনিংসের শুরুতেই নতুন বল নিয়ে প্যাভিলিয়ন এন্ড থেকে বোলিং শুরু করেন ও’কিফ।লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৭ ওভারে ২৩ রান দিয়ে থাকেন উইকেট শূন্য। বোলিং নিজেই ছিলেন না সন্তুষ্ট। তাইতো লাঞ্চ বিরতির সময় নিজেই গেলেন স্পিন কনসালটেন্ট ভারতীয় সাবেক অলরাউন্ডার শ্রীধরন শ্রীরামের কাছে। নিয়ে এলেন টোটকা। এরপর বাকীটা ইতিহাস।
লাঞ্চ বিরতির পর উইকেটে প্রান্ত বদল করে এলেন হিল এন্ডে। এরপরই শুরু হয় ও’কিফ জাদু। কে এল রাহুলকে দিয়ে শুরু করেন উইকেট শিকার উমেশ যাদবকে তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকার করেন। আর এ জন্য বল করেছেন মাত্র ৬.১ ওভার, রান দিয়েছেন মাত্র ১২। এই ৬.১ ওভারই আবারো পুনরজ্জীবন দিল ও’কিফের টেস্ট ক্যারিয়ার।
দ্বিতীয় ইনিংসে ও’কিফ তুলে নেন ৩৫ রানে ৬ উইকেট। ভারতের মাটিতে এক টেস্টে ১২ উইকেট শিকার করা প্রথম অসি বোলার তিনি, যেকোন সফরকারী দলের মধ্যে দ্বিতীয়। ১৩ উইকেট নিয়ে তার সামনে আছে ইংলিশ গ্রেট ইয়ান বোথাম। ১৯৩৪ সালে বাহাতি স্পিনার হ্যাডলি ভ্যারিটি ৪৯ রানে ৭ ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে অাউট করেছিলেন যেটা আজো ভারতের মাটিতে কোন ইনিংসে অসি বাহাতি স্পিনারের বোলারের সেরা বোলিং। দেখাযাক দ্বিতীয় টেস্টে সে রেকর্ড ও’কিফ ভাংতে পারেন কি না!
ইত্তেফাক/রেজা
